কাঁচা ছোলা খাওয়ার ১০টি দারুণ উপকারিতা ও সঠিক নিয়ম জানুন
ওজন কমাতে বা সুগার নিয়ন্ত্রণে চান প্রাকৃতিক সমাধান? কাঁচা ছোলা খাওয়ার
উপকারিতা, কতক্ষণ ভেজাবেন ও দিনে কতটুকু খাবেন, খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার
উপকারিতা সেই সাথে কাঁচা ছোলা খাওয়ার অপকারিতা সবকিছু একসাথে পাবেন এই লেখায়।
ওজন কমাতে চান? সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান? নাকি শুধু সারাদিন শক্তি ধরে
রাখতে চান? এসব প্রশ্নের একটি সহজ ও কম খরচের উত্তর হতে পারে প্রতিদিন সকালের
এক মুঠো ভেজানো ছোলা। আপনার শরীরকে সতেজ রাখতে এবং নানান রোগ ব্যাধি থেকে দূরে
থাকতে কাঁচা ছোলার সঠিক ব্যবহার ও খাওয়ার নিয়মাবলী বিস্তারিত জানতে পুরো
পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্ট সূচীপত্রঃ কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা/ খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা
- কাঁচা ছোলার পুষ্টিগুণ ও খাদ্য উপাদান
- কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কি?
- PCOS ও হরমোনের ভারসাম্যে ছোলা কতটা কার্যকর?
- খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা
- কাঁচা ছোলা খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও আদর্শ সময়
- ওজন কমাতে কাঁচা ছোলা: ডায়েট প্ল্যান ও রেসিপি আইডিয়া
- কাঁচা ছোলা খাওয়ার অপকারিতা জানুন।
- গ্যাস বা বদহজম এড়াতে কাঁচা ছোলা কীভাবে খাবেন?
- ছোলা ভিজিয়ে রাখার সময় যেসব ভুল এড়াতে হবে
- কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্তর
- কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমার নিজস্ব অভিমত
কাঁচা ছোলার পুষ্টিগুণ ও খাদ্য উপাদান
ছোলাকে আমরা বেশিরভাগ সময় ঝোল, ভর্তা বা ঘুগনিতেই ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু
ভিজিয় রাখার ফলে নরম হয়ে যাওয়া কাঁচা ছোলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা
কম। দামটা তুলনামূলক কম হলেও, ছোলা পুষ্টিতে দারুণ শক্তিশালী। অনেক দামী খাবারের সাথেও পাল্লা দিতে পারে।
১০০ গ্রাম শুকনো ছোলায় কী কী আছে?
USDA-র খাদ্য উপাদান তালিকা অনুযায়ী ১০০ গ্রাম শুকনো ছোলার মধ্যে মোটামুটি
ভাবে নিম্নোক্ত পুষ্টি উপাদান গুলো থাকতে পারে-
| উপাদান | আনুমানিক পরিমাণ |
|---|---|
| ক্যালরি | ৩৬৪ কিলোক্যালরি |
| প্রোটিন | ১৯ গ্রাম |
| শর্করা | ৬১ গ্রাম |
| খাদ্য আঁশ (ফাইবার) | ১৭ গ্রাম |
| ফ্যাট | ৬ গ্রাম |
| আয়রন | ৪.৩ মিলিগ্রাম |
| ম্যাগনেসিয়াম | ১১৫ মিলিগ্রাম |
| পটাসিয়াম | ৮১৮ মিলিগ্রাম |
| জিঙ্ক | ৩ মিলিগ্রাম |
| ফোলেট (ভিটামিন বি৯) | ৫৫৭ মাইক্রোগ্রাম |
একটি জিনিস মনে রাখা দরকার, এই হিসাবটা কিন্তু শুধু শুকনো ছলার ক্ষেত্রে।
ভেজালে ছোলা পানি টেনে ফুলে যায়, তাই একই ওজনে ক্যালরি ও পুষ্টি কমে প্রায়
অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে আসে। এর অর্থ এই যে আপনি যদি ৫০ গ্রাম ভেজানো ছোলা খান
তাহলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ গ্রাম শুকনো ছোলার সমপরিমাণ পুষ্টি পাবেন।
অনেকের ধারণা শুধু ডিম বা মাংসের মধ্যেই প্রোটিন থাকে। তবে যারা নিরামিষ বা কম
খরচে উন্নত মানের উদ্ভিদজাত প্রোটিন চান তাদের জন্য কাঁচা ছোলা হতে পারে একটি
চমৎকার বিকল্প। আপনি যদি নিয়মিতভাবে পরিমিত পরিমাণে কাঁচা ছোলা খান তাহলে শরীর
ভেতর থেকে চাঙ্গা থাকবে।
কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা
ছোলা নিয়ে প্রায় সকলেই একটি কথাই বলে প্রোটিন আছে ওজন কমায় এবং হজম শক্তি
ভালো রাখে। কথাগুলো ঠিক কিন্তু এর বাইরেও ছোলার বিভিন্ন গুনাগুন রয়েছে যেগুলো
সম্পর্কে খুব একটা আলোচনা হয় না। ভেজা ছোলা খাবার উপকারিতা শুধু পেট ভরা
পর্যন্তই থেমে থাকে না-
১. খাওয়ার পর মিষ্টির টান কমতে পারেঃ অনেকেরই দুপুরে খাবারের পর হঠাৎ করে চা
বিস্কিট বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খেতে ইচ্ছা করে। এর কারণ হতে পারে আমাদের রক্তে
শর্করার পরিমাণ ওঠানামা করা। ছোলার আঁশ ও প্রোটিন শর্করা কে ধীরে শোষণে সাহায্য
করে। বিকেলের হালকা নাস্তায় যদি একমুঠো ভেজানো ছোলা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা
যায় তাহলে এই টান অনেকটাই কমে যায়। ফলে আমাদের অজান্তেই বাড়তি চিনি খাওয়ার
অভ্যাসটা কমতে পারে।
২. অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাবারঃ ছোলার অপাচ্য আঁশ ও রেজিস্ট্যান্ট
স্টার্ট আমাদের বড় অন্ত্রে গিয়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে ব্যবহৃত
হয়। এই ব্যাকটেরিয়া গুলো বিউটিরেটের মতন শর্ট চেন ফ্যাটি এসিড তৈরি করে। যা
অন্ত্রের মধ্যকার কোষের স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শুধু
কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় না বরং অন্ত্রের ভেতরের পরিবেশকেও ভালো রাখারও একটি উপায়।
৩. নিরামিষভোজীদের জন্য ভালো প্রোটিনের উৎসঃ ছোলার প্রোটিনে লাইসিন নামের এক
ধরনের অ্যামিনো এসিড তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ভাত বা আটার মধ্যে এই অ্যামিনো
এসিড কিছুটা কম থাকে। এইজন্য ভাতের সাথে ছোলা বা ডাল খেলে প্রোটিনের মান ভালো
পাওয়া যায়। যারা ডিম মাংস কম খান তাদের জন্য অনেক উপকারী হবে।
৪. রক্তস্বল্পতা ঠেকাতে সহায়কঃ আমাদের রক্ত তৈরিতে ব্যবহৃত আইরন ও ফোলেট এই
দুটি উপাদান ছোলার মধ্যে রয়েছে। তবে উদ্ভিজ্জ আয়রন সহজেই শোষিত হয় না।
ভেজানো ছোলার মধ্যে লেবুর রস বা টমেটোর যোগ করলে ভিটামিন সি শোষণ বাড়ায়।
খাওয়ার ঠিক পরপরই চা না খাওয়ায় উত্তম। কারণ চায়ের ট্যানিন আয়রন শোষণকে
কমিয়ে দেয়।
৫. পেশি ও স্নায়ুর আরামঃ ছোলার মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম এই দুটি
উপাদানই রয়েছে। দুটিই পেশীর সংকোচন প্রসারণ ও স্নায়ুর কাজে ব্যবহৃত হয়।
যাদের ঘন ঘন পেশীতে টান বা খিচুনির সমস্যা রয়েছে তাদের খাদ্য তালিকায় ছোলা
যোগ করা একটি সহজ উপায় হতে পারে। তবে এই সমস্যা যদি ঘনঘন হয় তাহলে চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
৬. রোজার ইফতারে ও দীর্ঘ উপবাসের পর শক্তি জোগায়ঃ আমাদের দেশে ঐতিহ্যগতভাবেই
ছোলা প্রায় একটি অপরিহার্য উপাদান। আর এর পচনে রয়েছে শক্ত বিজ্ঞানসম্মত কারণ।
সারাদিন উপবাস থাকার পর ছোলার মধ্যে থাকা শর্করা ও প্রোটিন আমাদের শরীরে শক্তি
জগাই। ভাজাপোড়া খাবারের বদলে সেদ্ধ ছোলা বেছে নিলে ইফতারের পর ভারী ভাব ও
অম্বল অনেকটাই কমে যায়।
৭. বাড়তি বাজেট ছাড়াই পুষ্টির নিশ্চয়তাঃ কম খরচের মধ্যে প্রোটিন আঁশও খনিজ
একসাথে পাওয়ার উৎস খুবই কম রয়েছে। এজন্য নিম্ন ও মধ্যবর্তী পরিবারে ছোলা একটি
খাবার নয় বরং একটি সাশ্রয়ী পুষ্টির পরিকল্পনাও বটে।
৮. ত্বক ও চুলের পুষ্টিতে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতাঃ ছোলায় জিংক, আয়রন,
প্রোটিন ও ফোলেট থাকে। এই উপাদানগুলো আমাদের শরীরের কোষ গঠন ও টিস্যু মেরামতে
সহায়ক ভূমিকা রাখে। যাদের পুষ্টির অভাবে চুল পড়া বা ত্বক নিষ্প্রাণ হয়ে
যাওয়ার মত সমস্যা দেখা দেয় তাদের জন্য ছোলা হতে পারে একটি উপকারী উপাদান। তবে
ছোলা সরাসরি চুল পড়া বন্ধ করে বা ত্বক উজ্জ্বল করে এমন অতিরঞ্জিত দাবি করা ঠিক
নয়।
৯. কোষের ভেতরের প্রদাহ কমায়ঃ আমাদের ব্যস্ততম জীবনে অনিয়মিত খাবার ও মানসিক
চাপের কারণে শরীরে ক্রনিক ইনফ্লেশন বা ভেতরে ভেতরে সুক্ষপ্রদাহ তৈরি হয়। কাঁচা
ছোলার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্লাবানয়েড যা আমাদের কোষের এই ফ্রি
র্যাডিক্যালজনিত ক্ষতি রোধ করে। ফলে বয়স বয়স বাড়লেও শরীর ভেতর থেকে সতেজ
থাকে।
১০. দীর্ঘ সময় কাজ বা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়কঃ ছোলার জটিল শর্করা
ধীরে গ্লুকোজ ছাড়ে, ফলে মস্তিষ্ক স্থির শক্তি পায়। ফোলেট ও আয়রনও মস্তিষ্কে
অক্সিজেন সরবরাহ ও স্নায়ুর কাজে ভূমিকা রাখে। এজন্য শিক্ষার্থী অথবা
অফিস-কামীদের জন্য বিকেলের নাস্তা হিসেবে ভেজানো ছোলা একটি চমৎকার বিকল্প ।
PCOS ও হরমোনের ভারসাম্যে ছোলা কতটা কার্যকর?
বর্তমানে বেশিরভাগ নারীদের হরমোন জনিত অন্যতম একটি সমস্যা হল PCOS। এ সমস্যার
সমাধানের জন্য খাদ্য তালিকায় সঠিক খাবার নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই
জানতে চান, PCOS ও হরমোনের ভারসাম্যে ছোলা কতটা কার্যকর? যদি পুষ্টি বিজ্ঞানের
দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী দেখা যায়, তাহলে ছোলা হরমোনের ভারসাম্য ফেরাতে একটি
অত্যন্ত জরুরি প্রাকৃতিক সহযোগী হিসেবে কাজ করে।
PCOS আক্রান্ত নারীদের শরীরে দেখা যায় ইনসুলিন রেসিস্টেন্স। এর অর্থ রক্তের
মধ্যে থাকা শর্করা কোষ সহজে গ্রহণ করতে পারছে না যার ফলে অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি
হয়ে যায় এবং তা মেল হরমোন বা এন্ড্রোজেন এর মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। ছোলার
মধ্যে থাকা নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও প্রচুর পরিমাণ ফাইবার রক্তে গ্লুকোজের
প্রবাহকে ধীর করে দেয়। যার ফলে ইনসুলিনের ওটা নামা নিয়ন্ত্রণে থাকে হরমোনের
অতিরিক্ত ক্ষরণ কমায়।
এছাড়াও ছোলার মধ্যে আরেকটি প্রাকৃতিক উদ্ভিদজাত উপাদান রয়েছে সেটি হল
ফাইটোসট্রেজন। এটি আমাদের শরীরের ইস্ট্রোজেন হরমোনের মতো কাজ করে অতিরিক্ত
কৃত্রিম বা ক্ষতিকর ইস্ট্রোজেনের প্রভাবকে অনেকটা কমিয়ে ফেলে। পাশাপাশি এর
মধ্যে থাকা ভিটামিন b6 এবং ম্যাগনেসিয়াম হরমোন তৈরি ও প্রজেস্টেটনের ভারসাম্য
রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
👉খাওয়ার সঠিক উপায়:
- খাওয়ার সঠিক উপায় : PCOS যদি থেকে থাকে তাহলে ছোলা অতিরিক্ত তেল-মসলা দিয়ে ভুনা করে খাবেন না। পানিতে ভিজিয়ে কাঁচা বা হালকা সেদ্ধ করে সালাদ হিসেবে খেলে বেশি উপকার পাবেন। প্রতিদিন এক মুঠো ছোলা খাবারের তালিকায় রাখলে তা ওভারিয়ান স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং মেজাজের ভারসাম্য (Mood Swings) বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তবে মনে রাখুন, ছোলা কোনো চিকিৎসা নয়। PCOS-এ ওষুধ, ব্যায়াম, ঘুম ও মানসিক
চাপ নিয়ন্ত্রণও সমান জরুরি। কিডনি পাথরের ইতিহাস থাকলে বা ওষুধ চলছে এমন
অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকা ঠিক করুন।
খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা
সকালবেলা শরীরকে চাঙ্গা করতে এবং মেটাবলিজম বা বিপাক ক্রিয়া ঠিক রাখতে খালি
পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা অনস্বীকার্য। গতানুগতিক পুষ্টিগুণের বাইরেও
খালি পেটে ভেজানো ছোলা খাওয়ার কিছু অভিনব ও সুদূরপ্রসারী স্বাস্থ্যগত সুফল
দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী রাতের বেলা পানিতে ভিজিয়ে রাখা ছোলা অ্যামিনো
অ্যাসিড এবং প্রাকৃতিক এনজাইমগুলো পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে ওঠে। খালি পেটে যখন
খাওয়া হয় তখন গ্যাস্ট্রিক জুস বা পরিপাক রস খুব সহজেই এই পুষ্টি উপাদানগুলোকে
শুষে নিতে পারে।
এর আরেকটি বিশেষ উপকারিতা রয়েছে সেটি হল এটি সকালের প্রথম ভাগে আমাদের
মস্তিষ্কে
সেরোটোনিন হরমোনের
উৎপাদনকে বৃদ্ধি করে। যার ফলে সারা দিনের কর্মব্যস্ততাতেও আমাদের মেজাজ ফুরফুরা
থাকে এবং সেই সাথে মানসিক অবসাদ বা মুড সুইং এর প্রবণতাও কমে আসে। এছাড়া খালি
পেটে ছোলা খাওয়ার ফলে এর মধ্যে থাকা ফাইবার আমাদের পেটের সংবেদনশীল লাইনিং
পরিস্কার করতে এবং দীর্ঘ মেয়াদে গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ট্রাস্টকে সুস্থ
রাখতে কার্যকর ভাবে কাজ করে।
আমাদের অনেকেরই সকালে খালি পেটে চা খাওয়ার বদভ্যাস রয়েছে যা এসিডিটির মাত্রা
বাড়িয়ে দেয়। যদি চা খাওয়ার আগে এক মুঠো ভেজানো ছোলা চিবিয়ে খান তাহলে
পাকস্থলীতে ক্ষতিকর এসিডের প্রভাব অনেকটাই নিউট্রালাইজড হয়ে যায়। তবে যাদের
হজম শক্তি অত্যন্ত সংবেদনশীল তারা শুধু ছোলা না খেয়ে এর সাথে একটুকরো আদা যোগ
করে নিতে পারেন। যদি সঠিক নিয়মে ও নিয়মিতভাবে এ অভ্যাসটি গড়ে তোলা যায়
তাহলে আমাদের শরীর ভেতর থেকে পরিষ্কার ও চন্মনে থাকবে।
কাঁচা ছোলা খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও আদর্শ সময়
কাঁচা ছোলার সব পুষ্টি পাওয়ার আসল গোপন রহস্য কিন্তু লুকিয়ে আছে এটি খাওয়ার
নিয়মে। নিয়ম না মেনে খেলে যেমন পেটে গ্যাস হতে পারে, তেমনি সঠিক উপায়ে খেলে
শরীর দ্বিগুণ শক্তি পায়। তাই কাঁচা ছোলা খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও আদর্শ সময় জেনে
নেওয়া খুব জরুরি।
👇কখন খাওয়া ভালো?
সকালে নাস্তার সময় ছোলা খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এই সময় শরীরে শক্তির চাহিদা
বেশি থাকে। ছোলার প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট ধীরে হজম হয়, ফলে দুপুর পর্যন্ত
ক্ষুধা কম লাগে।
যারা খালি পেটে খেতে চান, তারা সকালে অল্প পরিমাণে খেতে পারেন। তবে গ্যাস,
অ্যাসিডিটি বা পেট ব্যথার সমস্যা থাকলে খালি পেটে না খেয়ে নাস্তার সঙ্গে
খাওয়াই নিরাপদ।
👇কতটুকু খাবেন?
- শুরুতে: ২-৩ চামচ
- সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক: দিনে ৫০-১০০ গ্রাম ভেজানো ছোলা (এক মুঠো থেকে দুই মুঠো)
- শিশু ও বয়স্ক: অল্প পরিমাণে, ভালো করে নরম করে
👇কিভাবে খাবেন?
- সঠিকভাবে ভিজানো: ছোলা কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। শক্ত ছোলা খেলে হজমে সমস্যা হবে।
- আদা ও লেবুর ম্যাজিক: ছোলা চিবিয়ে খাওয়ার সময় সাথে ছোট্ট এক টুকরো কাঁচা আদা বা সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিন। আদা ছোলার বায়ু বা গ্যাস তৈরির প্রবণতা দূর করে আর লেবুর ভিটামিন-সি ছোলার আয়রন শরীরে দ্রুত শুষে নিতে সাহায্য করে।
- ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া: হন্তদন্ত হয়ে গিলে না খেয়ে মুখে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ চিবিয়ে খান। এতে মুখে লালা মিশে হজম সহজ হয়।
ছোট কিছু কৌশল
ছোলা খাওয়ার আগে ও পরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। কারণ আঁশ পানি ছাড়া
ঠিকভাবে কাজ করে না। ভেজানো ছোলায় লেবুর রস দিলে আয়রন শোষণ বাড়ে। একসাথে
বেশি পরিমাণে না খেয়ে সারাদিনে ভাগ করে খান। তবে ভেজানো ছোলা ফ্রিজে ২-৩ দিনের
বেশি কখনোই রাখবেন না।
ওজন কমাতে কাঁচা ছোলা: ডায়েট প্ল্যান ও রেসিপি আইডিয়া
শুধু ছোলা খেলেই যে ওজন কমবে এই ধারণাটি সঠিক নয়। আপনার ওজন তখনই কমবে যখন
আপনি দিনের মোট ক্যালোরিকে কমে আনতে পারেন। আর ক্ষুধাও সামলে নিতে পারেন। ছোলা
এখানে দ্বিতীয় কাজটি ভালোভাবে করে।
ছোলা কীভাবে ওজন কমানোর পথে সাহায্য করে?
- ছোলার মধ্যে থাকা আঁশ ও প্রোটিনের কারণে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে। ভেজানো ছোলার মধ্যে ক্যালরির পরিমাণও কম। এক গ্রাম ভেজানো ছোলার মধ্যে প্রায় ১৫০ থেকে ১৮০ কিলোক্যালরি থাকে। যা একই পরিমাণ ভাত ও রুটির চেয়ে কম কিছু নয়। কিন্তু পেট ভরে অনেক বেশি সময়। তাই মূল কৌশল হলো ছোলা দিয়ে অন্য খাবারের পরিমাণ কমানো, অতিরিক্ত যোগ করা নয়।
সহজ রেসিপি আইডিয়া
- ছোলা-শসা সালাদ: ভেজানো ছোলার সঙ্গে শসা, টমেটো, পেঁয়াজ ও ধনেপাতা মেশান। লেবুর রস, কালো গোলমরিচ ও সামান্য লবণ দিন। এভাবে একটি কম ক্যালোরিপূর্ণ সহজ নাস্তা তৈরি করে করে ফেলতে পারেন।
- ছোলা-দই বোল: এক বাটি টক দইয়ের সঙ্গে ভেজানো ছোলা, শসা ও জিরা গুঁড়া মেশান। এতে প্রোটিন বাড়ে এবং পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে।
- মসলাযুক্ত ভেজানো ছোলা: ভেজানো ছোলায় জিরা গুঁড়া, আদা কুচি, লেবুর রস ও সামান্য কালো লবণ মেশান। এটি স্বাদে ভালো এবং গ্যাসের সমস্যাও কমাতে সাহায্য করতে পারে।
👉যে ভুলগুলো ওজন কমতে বাধা দেয়
- ছোলার সঙ্গে ঘি, চিনি বা গুড় বেশি মেশানো
- তেলে ভাজা ছোলা বা ঘুগনিকে "ডায়েট ফুড" ভাবা
- দিনে এক বাটির বেশি খাওয়া
- পানি কম খাওয়া, ফলে আঁশ ঠিকভাবে কাজ করে না
মনে রাখবেন, ছোলা একা ওজন কমায় না। নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম ও মোট খাবারের
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ সমান জরুরি। প্রতিদিন ২৫–৪০ গ্রাম ছোলা যথেষ্ট। এর বেশি খেলে
ক্যালরি বাড়তে পারে এবং গ্যাসের সমস্যাও হতে পারে।
কাঁচা ছোলা খাওয়ার অপকারিতা ও অজানা কিছু ঝুঁকি
কাঁচা ছোলা খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক হলেও এটি সবার শারীরিক গঠনের
সাথেএকভাবে কাজ করে না। গ্যাস বা পেট ফাঁপার বাইরে কাঁচা ছোলা খেলে যেসকল
স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে তা সম্পর্কে আমাদের জানা অত্যন্ত জরুরী-
১. ব্যাকটেরিয়া ও ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকিঃ
- কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে রাখার সময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া (যেমন Salmonella বা E. coli) খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে। কাঁচা বা হালকা ভেজানো ছোলা না ফুটিয়ে খেলে পেট খারাপ, ডায়রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের কাঁচা ছোলার বদলে হালকা সেদ্ধ করে খাওয়া নিরাপদ।
২. ভেজানো ছোলা পচে গেলে বিপদ
- গরমের সময় যদি 10 থেকে 12 ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ছোলা ভিজিয়ে রাখলে ছোলা গেঁজে যেতে পারে। যদি ছোলা থেকে টক গন্ধ বা ফেনা দেখা দেয় তাহলে সেটি খাওয়ার অযোগ্য। এতে পেট খারাপ বমি বা জ্বর আসতে পারে।
৩. কিডনিতে পাথর সৃষ্টির প্রবণতাঃ
- কাঁচা ছোলায় মাঝারি মাত্রার অক্সালেট (Oxalate) থাকে। যাদের পূর্বে কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস আছে, তারা প্রচুর পরিমাণে কাঁচা ছোলা খেলে অক্সালেটের ঘনত্ব বেড়ে নতুন করে পাথর জমার ঝুঁকি বাড়ে।
৪. ক্যালরি লুকিয়ে আছে অজান্তে
- "ডায়েট ফুড" ভেবে অনেকে বড় বাটি ছোলা খেয়ে ফেলেন। ১০০ গ্রাম ভেজানো ছোলায় মোটামুটি ১৫০-১৮০ কিলোক্যালরি থাকে। সঙ্গে তেল, চানাচুর বা গুড় যোগ হলে ওজন কমার বদলে বাড়তে পারে।
৫. থাইরয়েডের ওষুধের সময় ঘনিষ্ঠভাবে খেয়াল রাখা
- থাইরয়েডের ওষুধ সাধারণত খালি পেটে খেতে হয়। এই ঔষধ খাওয়ার পর উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া হয় তাহলে ওষুধের শোষণ কমে যেতে পারে। এজন্য ওষুধ ও ছোলার মধ্যে ৩০-৬০ মিনিটের পার্থক্য রাখতে হবে ।এবং সেই সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গ্যাস বা বদহজম এড়াতে কাঁচা ছোলা কীভাবে খাবেন?
ছোলা খেতে ভীষণ ভালোবাসেন, কিন্তু নাম শুনলেই পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি শুরু হয়
এমন সমস্যায় কমবেশি আমরা সবাই ভুগে থাকি। কাঁচা ছোলা হজম করা অনেকের জন্যই একটু
কঠিন, কারণ এতে থাকা জটিল শর্করা ও ফাইবার সহজে ভাঙতে চায় না। তবে একটু বুদ্ধি
করে খেলে গ্যাসের এই ঝামেলা একদম দূর করা সম্ভব। গ্যাস বা বদহজম এড়াতে কাঁচা
ছোলা কীভাবে খাবেন, তার কিছু সহজ ও কার্যকর কৌশল নিচে দেওয়া হলো:
👉 আমাদের শরীরে গ্যাস আসলে কেন হয়?
ছোলায় রেফিনোজ নামের একধরনের শর্করা আছে। আমাদের ছোট অন্ত্রে এটি ভাঙার এনজাইম
নেই। ফলে এটি বড় অন্ত্রে পৌঁছায় আর সেখানকার ব্যাকটেরিয়া এটি গাঁজিয়ে গ্যাস
তৈরি করে। কাজেই লক্ষ্য একটাই, রেফিনোজের পরিমাণ কমানো এবং অন্ত্রকে ধীরে ধীরে
মানিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া।
রান্নাঘরের ৫টি কার্যকর কৌশল
- ১. ভেজানোর পানি বদলান: ৮-১২ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২ বার পানি পাল্টে দিন। রেফিনোজের একটি অংশ পানিতে মিশে যায়, তাই এই পানি কখনো খাবেন না।
- ২. ভেজানোর পানিতে সামান্য বেকিং সোডা: এক কাপ ছোলায় আধা চা-চামচের কম বেকিং সোডা দিতে পারেন। এতে ছোলা নরম হয়। তবে বেশি দিলে স্বাদ নষ্ট হয়, আর সোডা ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
- ৩. অঙ্কুরিত করুন: অঙ্কুর গজানোর সময় ছোলার কিছু জটিল শর্করা ভেঙে যায়। তবে নিরাপত্তার জন্য অঙ্কুরিত ছোলা হালকা সেদ্ধ করে খাওয়াই ভালো।
- ৪. হালকা সেদ্ধ করুন: কাঁচা ভেজানো ছোলা বেশি গ্যাস করলে ৫-৭ মিনিট সেদ্ধ করে নিন। পানি ফেলে দিন। এতে হজম অনেক সহজ হয়।
- ৫. মশলার সাহায্য নিন: জিরা, হিং, আদা ও অল্প গোলমরিচ হজমে সহায়ক বলে পরিচিত। সেদ্ধ ছোলায় এক চিমটি ভাজা জিরা গুঁড়া মিশিয়ে দেখুন।
👉খাওয়ার সময়ের সাবধানতা-
- ধীরে চিবোন। মুখের লালায় থাকা এনজাইম হজম শুরু করে।
- অল্প দিয়ে শুরু করুন। প্রথম সপ্তাহে ২-৩ চামচ, তারপর ধীরে বাড়ান।
- একা না খেয়ে সালাদ বা সবজির সঙ্গে খান। তাতে হজম ধীরে ও সহজে হয়।
- খাওয়ার পর হালকা হাঁটুন। ১০-১৫ মিনিটের হাঁটা গ্যাস সরাতে সাহায্য করে।
- দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করুন। আঁশ পানি ছাড়া কাজ করতে পারে না।
👉কোন ভুলগুলো গ্যাস বাড়ায়?
- ছোলার সঙ্গে অন্য ডাল বা রাজমা একসঙ্গে বেশি খাওয়া
- খাওয়ার পরপর ঠান্ডা কোমল পানীয় পান করা
- রাতে ঘুমের ঠিক আগে খাওয়া
- তাড়াহুড়ো করে না চিবিয়ে গেলা
ছোলা ভিজিয়ে রাখার সময় যেসব ভুল এড়াতে হবে
ছোলা ভেজানো আমাদের কাছে খুব সহজ কাজ মনে হয়। রাতে বাটির মধ্যে ছোলা আর পানি
দিয়ে দিলেই হয়ে গেল আমরা ভাবি। কিন্তু এই সহজ কাজের মধ্যেই ছোট ছোট ভুল করি
যার কারণে সঠিকভাবে ফোলে না এবং এর স্বাদ নষ্ট হয়ে আমাদের পেটের সমস্যা তৈরি
করে। আমরা যদি এই ভুলগুলো জেনে তা শুধরে নেই তাহলে একই ছোলা থেকে বেশি পরিমাণে
ফল পাবেন বলে আসা করছি-
ভুল ১. না ধুয়ে ভিজিয়ে রাখা :
- আমরা অনেকেই বাজার থেকে ছোলা কিনে ভালোমতো না ধুয়েই সরাসরি পানিতে ভিজিয়ে রাখি। যার ফলে ছোলার গায়ে থাকা ধুলাবালি কীটনাশক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া গুলোপানিতে মিশে ছোলার ভেতরে ঢুকে যায়। ভেজানোর আগেই ২-৩ বার পরিষ্কার পানি দিয়ে ভাল মতন ধুয়ে নিতে হবে।
ভুল ২. অতিরিক্ত বা কম সময় ভেজানো:
- ছোলা অন্তত 8 থেকে 10 ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। যদি ৪-৫ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখা হয় তাহলে শক্ত হয়ে যাবে এবং বদহজম তৈরি করবে। আবার ১৪ থেকে ১৫ ঘন্টার বেশি রাখলে তা পচে যাবে এবং টক গন্ধ তৈরি করতে পারে।
ভুল ৩. ভেজানো পানি খাওয়া বা রান্নায় দেওয়া :
- ছোলা ভেজানোর ফলে ছোলার মধ্যে থাকা অ্যান্টি নিউট্রিয়েন্ট ও গ্যাস তৈরীর উপাদান পানির মধ্যে চলে আসে। তাই ভেজানো পানি একেবারে ফেলে দিন এবং ছোলা খাওয়ার আগে আবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
ভুল ৪. ঢেকে না রাখা ও গরমে ফেলে রাখা:
- খোলা পাত্রে রেখে দিলে ওপর থেকে মাছি বা ধুলাবালি পড়তে পারে। তাছাড়া গরমের দিনে বেশি সময় বাইরে রাখলে ফাঙ্গাস পড়ে যায়। তাই ঢেকে রাখুন এবং অতিরিক্ত গরমে ভেজা পাত্রটি ফ্রিজে রাখতে পারেন।
ভুল ৫. ধাতব বা নোংরা পাত্র ব্যবহার
- আপনি যদি অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখেন তাহলে ছোলার স্বাদ ও গুণ দুইটাই বদলে যেতে পারে। এর জন্য কাচ স্টিল বা মাটির পাত্র ব্যবহার করতে পারেন। পাত্রকে অবশ্যই থেকে রাখুন নইলে এর মধ্যে ধুলোবালি পড়তে পারে।
ভুল ৬. ভেজানোর পানিতে লবণ দেওয়া
- অনেকে ভাবেন লবণ দিলে ছোলা ভালো ভিজবে। আসলে বেশি লবণ ভেজানোর গতি কমাতে পারে। স্বাদের জন্য খাওয়ার সময় লবণ দিন।
কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্তর
প্রশ্ন ১. গর্ভবতী নারীরা কি কাঁচা ছোলা খেতে পারেন?
উত্তরঃ ছোলায় ফোলেট ও আয়রন আছে, যা গর্ভাবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে অঙ্কুরিত
ছোলা কাঁচা না খেয়ে সিদ্ধ করে খাওয়া নিরাপদ, কারণ ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি থাকে।
প্রশ্ন ২. ছোলা খেলে কি ওজন বাড়ে?
উত্তরঃ ছোলা আমাদের শরীরে ক্যালরি ও পুষ্টি সরবরাহ করে। আপনি যদি দৈনিক
প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে ক্যালরি গ্রহণ করেন তবে এটি ওজন বাড়ানোর
একটি উপাদান হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে শুধু যে ছোলা খাওয়ার কারণে ওজন বাড়বেই
এমন ধারণা সঠিক নয়।
প্রশ্ন ৩. ভেজানো ছোলার খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া কি ভালো?
উত্তরঃ ছোলার খোসায় ফাইবার থাকে, তাই সাধারণত খোসাসহ খাওয়া যায়। তবে
কারও হজমে সমস্যা হলে খোসা ছাড়িয়ে বা ছোলা ভালোভাবে সেদ্ধ করে খেলে
তুলনামূলক আরাম পেতে পারেন। খোসা ছাড়ালেই ছোলা বেশি পুষ্টিকর হয়, এমন
নয়।
প্রশ্ন ৪. একই ছোলা কতদিন সংরক্ষণ করা যায়?
উত্তরঃ শুকনো ছোলাকে শুকনো বায়ুরোধী পাত্রে ৬ থেকে ১২ মাস সংরক্ষণ করা
যায়। আর যদি ছোলা ভেজানো হয় তাহলে ফ্রিজে ২-৩ দিন ভালো থাকে। আর সেদ্ধ
ছোলা ফ্রিজে ৩-৪দিন সঠিকভাবে রাখা যায়। তবে যদি দুর্গন্ধ বা পিচ্ছিল ভাব
দেখেন তাহলে অবশ্যই ফেলে দিতে হবে।
প্রশ্ন ৫. ছোলা ভেজানো ফ্রিজে রাখলে কি পুষ্টি নষ্ট হয়?
উত্তরঃ না, তেমন নষ্ট হয় না। ফ্রিজে রাখলে বরং ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি
কমে যায় এবং গেঁজে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে যায়। গরমকালে এটি আরো বেশি
নিরাপদ।
প্রশ্ন ৬. ছোলা কি ডিমের চেয়ে বেশি প্রোটিন দেয়?
উত্তরঃ ওজন হিসাবে শুকনো ছোলায় ডিমের চেয়ে বেশি প্রোটিন থাকে, তবে
ভেজালে পানি টেনে প্রোটিনের ঘনত্ব কমে যায়। এএছাড়া ডিমের মধ্যে
থাকা প্রোটিন শরীর সহজে কাজে লাগায়। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এই
দুটিকে খাদ্য তালিকায় রাখা যায় ।
প্রশ্ন ৭. ভেজানো ছোলার পানি কি খাওয়া যায়?
উত্তরঃ ভেজানো ছোলার পানি ফেলে দেওয়াই ভালো। এই পানিতে গ্যাস
তৈরির শর্করা ও হজমে বাধা দেওয়া উপাদান জমে।
কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমার নিজস্ব অভিমত
আমি মনে করি কাঁচা ছোলা কোন জাদুগরী সুপারফুড নয়। তবে আমাদের
দেশের কার্যকর একটি পুষ্টির উৎস। আর ছোটবেলায় থেকে দেখতাম নানা
বাড়িতে সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমার দাদু এক বাটি ভেজানো ছোলা আর
সামান্য গুড় খেতে বসতেন। তখন আমি মনে করতাম এটি হয়তো কেবল একটি
গ্রামীণ অভ্যাস। কিন্তু বড় হয়ে যখন পুষ্টিবিজ্ঞান ও নিজের শরীরের
উপর এর প্রভাব দেখলাম তখন এর আসল রহস্যটা বুঝতে পারলাম।
আমি মনে করি প্রতিদিন সকালে একমুঠো কাচা ছোলা চিবিয়ে খাওয়ার
ফলে আমাদের শরীর যে এনার্জি পায় তা বাজারে কেমিকাল যুক্ত দামি
সাপ্লিমেন্টেও পাওয়া সহজ নয়। সকালের নাস্তায় রুটি ও ডিমের
পাশাপাশি যদি অল্প পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা রাখা যায় তাহলে খাবারের
মধ্যে বৈচিত্র্য আসে এবং পুষ্টির চাহিদাও সঠিকভাবে পূরণ হয়।
আমাদের অনেকেরই বিকেলের নাস্তা হিসেবে চা-বিস্কিট বা সিঙ্গারার
অভ্যাস রয়েছে। কেউ যদি এ ভাজাপোড়ার বদলে এক বাটি ভেজানো ছোলা
শসা ও লেবুর রস এর সালাদ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে
শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালোরি যেমন পূরণ হয় রাতের ভারী খাবারের
আগে খুদা কম লাগে আগে এবং মিষ্টির টানো অনেকটা কমে যায়। এতে ওজন
বা সুগার নিয়ন্ত্রণের পথে ছোট কিন্তু বাস্তব একটি পরিবর্তন আসে।




মাল্টিম্যাক্স আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।
comment url