চিয়া সিড খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও ৫টি চমৎকার অজানা উপকারিতা জানুন

ভুল নিয়মে চিয়া সিড খাচ্ছেন না তো? জানুন চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা, ওজন কমানোর কৌশল, চিয়া সিডের পুষ্টিগুণ এবং সকালে খালি পেটে খাওয়ার সেরা স্বাস্থ্য বেনিফিট সেই সাথে থাকছে চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত গাইড।
চিয়া-সিড-খাওয়ার-নিয়ম-ও-উপকারিতা
সুপারফুড হিসেবে পরিচিত চিয়া সিড ইদানীং স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে। তবে অনেকেই জানতে চান চিয়া সিড কি শুকনো খাওয়া যায়? দিনে কতটুকু নিরাপদ? ওজন কমাতে সত্যিই কাজে লাগে কি? এসব প্রশ্নের উত্তর এক জায়গায় পাবেন এই লেখায়।

পোস্ট সূচীপত্রঃ চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা/ চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা

চিয়া সিড কি

চিয়া সিড হল Salvia hispanica নামক এক ধরনের উদ্ভিদের ছোট বীজ। এই গাছটি মূলত পুদিনা পরিবারের এবং এই গাছটি মূলত আমেরিকা বিশেষত মেক্সিকো ও কুয়েতমালা অঞ্চলের। এই বীজগুলো আকার তিলের চেয়েও ছোট হয়, রং কালো ধূসর অথবা সাদাটে হয়ে থাকে। এই বীজের একটি মজার বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেটি হল, পানিতে ভেজালে সে নিজের ওজনের প্রায় ১০ থেকে ১২ গুণ পানি সুষে নিতে পারে। 

সেই সময় বীজের চারপাশে পিচ্ছিল জেলের মতন আবরণ তৈরি করে। এই জেলই মূলত আমাদের পেট দীর্ঘ সময় ভরা রাখতে সাহায্য করে। একটি বিষয়ে অনেকেরই অজানা সেটি হল বাজারে সবজা বা তুকমারিয়াকে চিয়া সিড বলে বিক্রি করা হয়। মনে রাখবেন দুটি কিন্তু আলাদা উদ্ভিদের বীজ। চিয়া সিড সাধারণত ধূসর কালো ছিট যুক্ত চকচকে। অপরদিকে সবজা বীজ গাঢ় কালো এবং ভেজালে চারপাশে সাদা আবরণ দেখা যায়।

চিয়া সিডের ইতিহাস ও উৎপত্তি

বর্তমান চিয়া সিডকে ট্রেন্ডিং সুপার ফুড মনে হলেও এর ইতিহাস আসলে অনেক পুরাতন। আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মেক্সিকো ও গুয়াতেমালার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সর্বপ্রথম এই বীজের চাষ শুরু করা হয়।

বিশেষ করে প্রাচীন মায়া ও আস্তিক সভ্যতায় এটি ছিল যোগাযোগের অন্যতম একটি প্রধান খাদ্য। মায়া ভাষায় চিয়া শব্দের অর্থ পাওয়া যায় শক্তি। অ্যাজটেক যোদ্ধারা নিজেদের সারাদিন প্রাণবন্ত রাখতে এবং যুদ্ধের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য যুদ্ধে যাওয়ার আগে এই বীজ এক চামচ খেতেন। প্রাচীন সময়ে এই বীজের মূল্য এতটাই ছিল যে এটি কে কর বা রাজস্ব আদায়েও ব্যবহার করা হতো।

👉হারিয়ে যাওয়ার কারণ
ষোড়শ শতাব্দীর দিকে স্প্যানিশরা যখন মেক্সিকোর দখল নেয় তখন এর চাষাবাদ প্রায় বন্ধই হয়ে যায়। কিন্তু ৯০ এর দশকে গবেষকরা এই বীজের চমৎকার সব পুষ্টিগুণ আবিষ্কার করলে বিশ্বজুড়ে এটি আবার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমান যুগে এসেও সেই প্রাচীন মেক্সিকান ঐতিহ্যই আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টির যোগান দিচ্ছে।

👉আধুনিক যুগে ফিরে আসা
বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে আর্জেন্টিনার কিছু কৃষি গবেষক ও উত্তর-পশ্চিম আর্জেন্টিনা চাষিরা চিয়াকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরপর ক্রমান্বয়ে বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়াতেও এই চাষ শুরু হয়। ২০০৯ সালের দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চিয়া সিডকে নতুন খাদ্য হিসেবে অনুমোদন দেয়। তখন থেকেই এটি সুপার ফুড হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা

চিয়া সিড নিয়ে কথা উঠলেই সবাই হজম আর ওজনের কথা বলে। কিন্তু রান্নাঘর আর দৈনন্দিন জীবনে এই ছোট বীজের আরও কিছু কাজের দিক আছে। চলুন চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা গুলো কি কি?
চিয়া-সিড-খাওয়ার-উপকারিতা
১. ডিমের বদলে চিয়া জেলঃ ডিমে অ্যালার্জি আছে, কিংবা আপনি নিরামিষ খান? কেক, প্যানকেক বা কাটলেটে ডিমের জায়গায় চিয়া জেল ব্যবহার করা যায়। এর জন্য এক টেবিল চামচ চিয়া সীড নিয়ে তার সাথে তিন টেবিল চামচ পানি মেশান। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিলে ঘন জেল তৈরি হবে। তবে এটি ডিমের মতো ফুলানোর ক্ষমতা নেই তাই হালকা ও তুলতুল কেকের বদলে ঘন যেকোনো ধরনের রেসিপিতে ভালোভাবে কাজ  করে ।

২. সেহরিতে দেরিতে ক্ষুধা লাগার জন্যঃ রোজার সময় সেহরিতে কী খাবেন, এটা অনেকের বড় চিন্তা। ভেজানো চিয়া সিড জেলের মতো হওয়ায় হজম ক্রিয়া ধীরে হয়। তাই দই বা দুধের সঙ্গে ভেজানো চিয়া সিড খেলে দিনের বেলা ক্ষুধা কিছুটা দেরিতেই লাগে। তবে এই বিষয়ে ব্যাপক পরিমাণ গবেষণা হয়নি। সবার শরীরে একরকম ভাবে কাজ করবে তাও বলা যায় না। তাই সেহেরীতে ভাত রুটি বা ডালের মত ভারী খাবার বাদ দিয়ে শুধু চিয়া সিড খাওয়া কখনোই ঠিক হবে না। চিয়া সিডের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার রাখতে পারে যেটা আপনার শরীরকে ভরপুর শক্তি জোগাতে সাহায্য করবে।

৩. কম খরচে উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ঃ মাছ বা ফিস অয়েল ক্যাপসুল অনেকের কাছেই একটি ব্যয়বহুল প্রডাক্ট। বিশেষ করে যারা মাছ খান না তাদের জন্য চিয়া সিড হতে পারে ওমেগা থ্রি পাওয়ার একটি সহজ ও সাশ্রই মাধ্যম। এতে রয়েছে ALA নামের একটি উদ্ভিজ্জ অমেগা থ্রি। একটা কথা সবসময় মনে রাখা জরুরি সেটি হচ্ছে শরীর ALA কে মাছের ওমেগা-৩ (EPA ও DHA) এ খুব সামান্য পরিমাণই রূপান্তর করতে পারে। তাই এটি মাছের পুরোপুরি বিকল্প নয়, বাড়তি সহায়তা মাত্র।

৪. চিনি ছাড়া ঘরোয়া চিয়া জ্যামঃ চিয়া সিড ঘন করার কাজেও দারুণভাবে কাজ করে। কাটা আম, স্ট্রবেরি বা বেরি জাতীয় ফলকে অল্প আঁচে নেড়ে নিন। ২ টেবিল চামচ চিয়া সিড মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। কর্নফ্লাওয়ার ছাড়াই জ্যামের মতন ঘন হয়ে উঠবে। ফলের নিজস্ব মিষ্টি থাকে তাই অনেক সময় এখানে চিনিও কম লাগে। তবে ফ্রিজে রাখলে এক সপ্তাহের মধ্যেই খেয়ে শেষ করবেন।

৫. নিরামিষভোজীদের খাদ্যতালিকায় বাড়তি খনিজঃ চিয়া সিডের মধ্যে ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। যারা মাছ-মাংস অথবা দুগ্ধ জাতীয় খাবার তুলনামূলক কম খান তাদের খাদ্য তালিকায় এটি থাকলে একটি বাড়তি যোগান দিতে পারে। তবে চিয়া সিডের মধ্যে ফাইটিক অ্যাসিড থাকায় শরীর সব খনিজ পুরোপুরি শোষণ করে নিতে পারে না। সেজন্য ভিজিয়ে খেলে কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন।

১০০ গ্রাম চিয়া সিডের পুষ্টিগুণ

চিয়া সিডের পুষ্টির হিসাব সাধারণত ২৮ গ্রাম বা দুই টেবিল চামচের হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু ১০০ গ্রামের হিসাব দেখলে বোঝা যায়, এই ছোট বীজে কতটা ঘনভাবে পুষ্টি জমা আছে। তবে মনে রাখতে হবে, ১০০ গ্রাম একসঙ্গে খাওয়ার দরকার নেই। সাধারণত দিনে ১–২ টেবিল চামচই যথেষ্ট।

পুষ্টিগুণের তালিকা
USDA-এর তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম শুকনো চিয়া সিডে মোটামুটি আছে:
পুষ্টি উপাদান প্রতি ১০০ গ্রামে
ক্যালরি ৪৮৬ কিলোক্যালরি
প্রোটিন ১৬.৫ গ্রাম
মোট ফ্যাট ৩০.৭ গ্রাম
শর্করা ৪২.১ গ্রাম
ফাইবার ৩৪.৪ গ্রাম
চিনি ১.৬ গ্রাম
ক্যালসিয়াম ৬৩১ মিলিগ্রাম
আয়রন ৭.৭ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ৪০৭ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ১৬ মিলিগ্রাম

সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা

আপনি যদি দিনের শুরুটা এক ক্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড দিয়ে আপনার দিনটি শুরু করেন তাহলে কেমন হয় বলুন তো? এই নিয়ম মেনে চললে সারাদিন এনার্জি বা কর্মক্ষমতায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের শরীরের মেটাবলিজম ও হজম ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতার বিকল্প নেই।

রাতের বেলা অথবা খাওয়ার আগে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড খেলে এর মধ্যে থাকা ফাইবার আমাদের পেটে গিয়ে একটি ক্ষতিকর টক্সিন কমানোর স্তর তৈরি করে ফেলে। যার ফলে সারা রাতের অলস মেটাবলিজমকে দ্রুত সচল করে তোলে। তবে বিশেষ করে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এটি অনেক ফলপ্রসু হবে।

এছাড়াও, খালি পেটে এটি গ্রহণ করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না। এটি ধীরে ধীরে আমাদের শরীরের এনার্জিকে বাড়িয়ে তোলে। এর কারণে দুপুরের আগে অপ্রয়োজনীয় মিষ্টি বা ভারি খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা বা ক্রেভিংটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে। যারা সকালবেলা শরীর চর্চা বা রাত ভ্রমণে বের হন পেশির ক্লান্তি দূর করতে ও শরীরকে পর্যাপ্ত পরিমাণে হাইড্রেটেড রাখতে এটি একটি চমৎকার প্রাকৃতিক পানীয়।

তবে বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিক বা পেটের সমস্যা রয়েছে খালি পেটে খেলে এটি একটি অস্বস্তির কারণ হতে পারে। যদি এরকমটা অনুভব করেন তাহলে নাস্তার সঙ্গে খান। এছাড়া যাদের রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের ওষুধ খেতে হয় তারা এটি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম

কোন ধরনের পুষ্টিকর খাবার থেকে সেরা উপকারিতা পেতে চাইলে অবশ্যই খাওয়ার সঠিক নিয়মটা জেনে নিতে হবে। আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা শুধু উপকারের কথা শুনে না বুঝেই খাওয়া শুরু করে দেন কিন্তু সঠিক চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা পেতে কিছু টেকনিক ফলো না করলে এর থেকে কাঙ্ক্ষিত বেনিফিট পাবেন না।

সবচেয়ে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো এটিকে কখনোই শুকনো অবস্থায় খাওয়া যাবেনা। যদি শুকনো অবস্থায় দানা গিলে ফেলেন তাহলে খাদ্যনালীতে গিয়ে শরীরের পানি শুষে নিয়ে ফুলে উঠবে। যার ফলে শ্বাসনালী বা গলার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই খাওয়ার পূর্বে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট স্বাভাবিক পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। আর যদি সারারাত ভিজিয়ে রাখতে পারেন, তবে পুষ্টি উপাদানগুলো আরও সহজে শরীরে শোষিত হয়।
চিয়া-সিড-খাওয়ার-নিয়ম
খাওয়ার পরিমাণ ও তরিকার ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ অভ্যাস বজায় রাখা ভালো:
  • দৈনিক সঠিক মাত্রা: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ (প্রায় ১৫-২৫ গ্রাম) চিয়া সিডই যথেষ্ট। প্রথম শুরু করার সময় প্রথম সপ্তাহে ১ চা চামচ দিয়ে শুরু করে আস্তে আস্তে মাত্রা বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
  • পর্যাপ্ত পানি পান: চিয়া সিডে উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকে। তাই এই বীজ যদি আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় রাখেন তাহলে সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি না খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে।
😋পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম
এক গ্লাস পানিতে এক টেবিল চামচ সিয়া সীড নিন। এরপর সেটিকে ভালো হবে নাড়ুন। যেন বীজগুলো একসাথে জমাট না বেধে যায়। এরপর ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। যখন দেখবেন চিয়া সিডগুলো জেলির মত হয়ে গেছে তখন সেটি খেয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে এর স্বাদ বাড়ানোর জন্য লেবুর রস, আদা বা সামান্য মধু যোগ করে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন আপনার যদি ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকে তাহলে মধু ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

😋দই বা ওটসের সঙ্গে
প্রথমে এক কাপ দই নিয়ে তার সাথে এক টেবিল চামচ চিয়া সিড ভালোভাবে মিশান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখুন। যদি দেখেন চিয়া গুলো ফুলে জেলের মতো হয়েছে তখন খাওয়ার উপযোগী হবে। ওটস ব্যবহার করলে, ১ টেবিল চামচ চিয়া সিড এবং তিন-চতুর্থাংশ দুধ বা প্ল্যান্ট মিল্ক মিশিয়ে আগের দিন রাতে ফ্রিজে রাখুন। সকালবেলা এর সাথে বিভিন্ন ফল যোগ করে সেটি খেতে পারেন।

😋 স্মুদিতে ব্যবহার
এক গ্লাস স্মোদির মধ্যে এক টেবিল চামচ সিয়া সীড যোগ করতে পারেন। তবে বড় গ্লাস বা 16 আউন্স স্মুদিতে সর্বোচ্চ দুই টেবিল চামচ ব্যবহার করবেন। কলা, আম, পেঁপে, বেরি বা আপেল জাতীয় ফলের সাথে মিশিয়ে খেলে স্বাদ ভালো পাবেন। স্মুদিতে বেশি পরিমাণে চিনি বা আইসক্রিম যোগ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে করে স্বাস্থ্যকর খাবার অনেকটাই ক্যালরিযুক্ত হয়ে যায়।

👇 চিয়া সেড খাওয়ার নিয়মএ যেসব ভুল এড়িয়ে চলা জরুরী
    1. শুকনো চিয়া সিড একসঙ্গে গিলে ফেলবেন না।
    2. প্রথম দিনেই ২–৩ টেবিল চামচ খাবেন না।
    3. চিয়া খাওয়ার পর পানি কম পান করবেন না।
    4. ভেজানো চিয়া অনেকদিন বাইরে রাখবেন না; ফ্রিজে রাখুন।
    5. গ্যাস, পেট ব্যথা বা ডায়রিয়া হলে পরিমাণ কমিয়ে দিন।
    6. গিলতে সমস্যা, অন্ননালীর রোগ, পেটের গুরুতর সমস্যা বা অ্যালার্জি থাকলে চিয়া সিড খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
    7. ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ চলছে এমন ব্যক্তিদেরও নিয়মিত খাওয়ার আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

যারা ওজন কমানোর মিশনে রয়েছেন তাদের ডায়েট চারটে অবশ্যই চিয়া সিড পাওয়া যাবে। তবে এটি শুধু খেলেই যে ওজন কমবে এটি ভাবা ঠিক হবে না যতক্ষণ না আপনি নিয়ম মাফিক খাবেন। সঠিক নিয়মে ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম মেনে চললে তবেই জাদুকরী ফল পাওয়া সম্ভব।

ওজন ঝরাতে সবচেয়ে ভালো কাজ করে সকাল বেলা যদি খালি পেটে চিয়া সিড ও লেবুর শরবত একসাথে খেতে পারে। এর জন্য এক ক্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চামচ চিয়া সিড ও অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে সেটি ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। যখন দানাগুলো জেলির মতো ফুটে উঠবে তখন এটি খেয়ে ফেলুন।

👇এটি কিভাবে কাজ করে জানতে চান?
চিয়া সিডের মধ্যে রয়েছে উচ্চমাতার সল্যুবল ফাইবার আমাদের পেটে গিয়ে ফুলে ওঠে। এর ফলে পাকস্থলী দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে এবং ব্রেইনে স্যাসিয়টি বা পেট ভরার সিগন্যাল পাঠায়। যার ফলে আমাদের নাস্তার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত বাড়তি কোন খাবার বা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাটা আর সেভাবে কাজ করে না। এছাড়া দুপুরের বা রাতের খাবারের আধা ঘন্টা আগে সালাদ বা বাটার মিল্ক এর সাথে ১ চামচ ভেজানো চিয়া সিড খেতে পারেন। 

এটি আমাদের মূল খাবারে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ থেকে প্রাকৃতিকভাবে দূরে রাখে। তবে মনে রাখা উচিত চর্বি কমাতে হলে পরিমিত খাদ্যের পাশাপাশি প্রতিদিন হালকা হাটা বা ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরী। শুধুমাত্র চিয়া সিড খেলেই ওজন কমবে এই ভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাটা এবং জগিং অথবা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, চিয়া সিড কোমরের মাপ কমাতে সহায়ক। কিন্তু শরীরের ওজন এর ক্ষেত্রে স্পষ্ট পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি। তাই আমি বলব এটি সহায়ক খাবার হিসেবে রাখুন, প্রধান সমাধান হিসেবে না।

আসল চিয়া সিড চেনার উপায় ও সংরক্ষণ

বাজারে বিভিন্ন ধরনের বীজ পাওয়া যায়। সার মধ্যে কিছু কিছু বীজকে চিয়া সিড নামে বিক্রি করা হয় বিশেষ করে সবজা বা তুকমারিয়া নামের বীজ। কেনার আগে আপনি যদি কয়েকটা বিষয়ে ভালোভাবে দেখে নিন তাহলে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা কম

আসল চিয়া সিড চেনার উপায়-
  • চেহারা: চিয়া সিড ছোট, ডিম্বাকৃতি ও চকচকে। রং ধূসর, কালচে বাদামি বা কালো ছিটযুক্ত। সব বীজের রং হুবহু এক হয় না। কিছু সাদাটে বীজও মেশানো থাকতে পারে।
  • ভেজানোর পরীক্ষা: এক চামচ বীজ পানিতে দিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। চিয়া সিডের চারপাশে ঘন, পিচ্ছিল জেলের আবরণ তৈরি হয়। তবে সবজা বীজও জেল তৈরি করে। তাই শুধু এই পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় না।
  • সবজা বীজের সঙ্গে পার্থক্য: সবজা বীজ সাধারণত গাঢ় কালো ও আকারে কিছুটা বড়। ভিজলে সেগুলো দ্রুত ফোলে এবং চারপাশে স্বচ্ছ আবরণ তৈরি হয়। কেন্দ্রে একটি কালো বিন্দু স্পষ্ট দেখা যায়।
  • গন্ধ ও স্বাদ: তাজা চিয়া সিডে প্রায় কোনো গন্ধ নেই। তেতো বা বাসি তেলের গন্ধ থাকলে সেটি নষ্ট হয়ে গেছে।
  • ভেজাল: বীজের সঙ্গে ধুলা, ছোট পাথর বা ভাঙা দানা মেশানো আছে কিনা দেখুন।
👇কেনার সময় যা দেখবেন
    1. প্যাকেটে উৎপাদনকারীর নাম, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ আছে কিনা।
    2. প্যাকেটে “Salvia hispanica” লেখা আছে কিনা।
    3. খোলা বা খুচরা বিক্রির চেয়ে সিল করা প্যাকেট নিরাপদ।
    4. অস্বাভাবিক কম দাম সন্দেহজনক হতে পারে।
    5. অর্গানিক বা সার্টিফিকেশনের দাবি থাকলে সেটি যাচাই করুন।

চিয়া সিড দীর্ঘদিন ভালো রাখার সঠিক নিয়ম

সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে এই বীজে থাকা প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে বা স্যাঁতসেঁতে ভাব চলে আসতে পারে।
  • সবসময় বাতাসপ্রতিরোধী বা এয়ারটাইট কাঁচের বয়ামে রাখুন।
  • প্লাস্টিকের পাত্র বা খোলা প্যাকেটে না রেখে শুষ্ক ও ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করুন।
  • ভিজা চামচ কখনোই বয়ামের ভেতর দেবেন না। এতে ছত্রাক পড়তে পারে।
  • একবারে অনেক বেশি দিনের জন্য বানিয়ে পানিতে ভিজিয়ে না রেখে শুকনো দানা রেখে দেওয়া ভালো। তবে পানিতে ভেজানো চিয়া সিড রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে।
  • নষ্ট হয়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে? টক বা তেলতেলে গন্ধ, ছত্রাকের দাগ বা জমাট বাঁধা দলা দেখলে ফেলে দিন।

চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে ইতিমধ্যে জেনেছেন। তবে চিয়া সিড খাওয়ার কিছু ঝুঁকি আছে, যেগুলো নিয়ে আলোচনা খুব কম হয়। চলুন সেগুলো কি জেনে নিই।
চিয়া-সিড-খাওয়ার-অপকারিতা
১. ভেজানো বীজ দ্রুত নষ্ট হতে পারে
  • ভেজানো চিয়া সিড আসলে আদ্র জাতীয় খাবার। ঘরের তাপমাত্রায় যদি এটাকে বেশিক্ষণ রাখেন তাহলে এর মধ্যে বিভিন্ন জীবাণু জন্মাতে পারে। বিশেষ করে আমাদের দেশের গরমে এই ঝুকির পরিমাণ আরো বেশি। রাতের বেলা ভিজিয়ে রাখলে অবশ্যই ফ্রিজের মধ্যে রাখুন। আর টক জাতীয় গন্ধ বা পিচ্ছিল ভাব বেশি মনে হয় তবে ফেলে দিন।
২. কাঁচা অবস্থায় জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনা
  • বীজ ও অঙ্কুরিত খাবার থেকে বিভিন্ন দেশে সালমোনেলা সংক্রমনের ঘটনা দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে কাঁচা বা প্রক্রিয়াজাত নয় এমন বীজ বা পাউডার থেকে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। খোলা বাজার থেকে অপরিচিত উৎসের বীজ কেনা থেকে এই ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই সিল করা প্যাকেটের বীজ কেনায় সর্বোত্তম ।
৩. পেটে ভরা অনুভূতির কারণে সঠিক খাবার বাদ পড়া
  • আমরা সবাই জানি চিয়া সিড পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এটি একটি ভালো গুণ হলেও কেউ কেউ এর ওপর নির্ভর করে মূল খাবার এড়িয়ে যান। যার ফলে প্রোটিন আয়রন ও ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যারা ওজন কমানোর চেষ্টায় রয়েছেন। বয়স্ক ও বাড়ন্ত বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
৪. ওষুধ শোষণে প্রভাব
  • চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা মধ্যে অন্যতম হলো জেলের মতো আঠালো ফাইবার পেটে অন্য খাবার বা ওষুধের শোষণের গতি কিছুটা কমাতে পারে। এতবে সাবধানতা রাখা ভালো। এজন্য নিয়মিতভাবে ওষুধ খেলে ওষুধ এবং চিয়া সিড খাবার মাঝখানে অন্তত .১-২ ঘন্টার ব্যবধান রাখবেন। তবে আপনি যদি থাইরয়েডের সংবেদনশীল ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।
৫. পুরুষদের প্রোস্টেট নিয়ে অনিশ্চিত তথ্য
  • ALA ওমেগা-৩ ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্বন্ধীয় কিছু গবেষণায় পরস্পর বিরোধী ফলাফল পাওয়া গেছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে বেশি পরিমাণে ALA গ্রহণের ফলে এই ঝুঁকি বাড়ছে। অন্য গবেষণায় এই বিষয়ে কোন কিছুই পাওয়া যায়নি। 
  • তাই এই বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। আপনার পরিবারে যদি প্রোস্টেট ক্যান্সারের পূর্ব ইতিহাস থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিবেন। তবে আপনি যদি সাধারণ পরিমাণে সেবন করেন তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার সেরকম কোনো কারণ নেই। এই ঝুঁকিগুলো বেশিরভাগই এরানো সম্ভব। যদি সঠিক সংরক্ষণ, পরিমিত পরিমাণ এবং ভালো উৎস থেকে কেনা যায়।

বাংলাদেশে চিয়া সিডের দাম ও কোথায় পাবেন

কিছু বছর আগেও চিয়া সিড সহজলভ্য ছিলনা। বড় বড় সুপার শপে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন বিভিন্ন অনলাইনে এমনকি পাড়ার দোকানেও এটি পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর দাম ও কোয়ালিটির মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে তাই কেনার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নিতে নিজের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন।
দাম কেন কমবেশি হয়

চিয়া সিডের দাম নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর:
  • উৎস: আমদানি করা বীজ ও দেশে চাষ করা বীজের দাম আলাদা হয়।
  • ধরন: সাধারণ বীজের চেয়ে অর্গানিক সার্টিফায়েড বীজের দাম বেশি।
  • প্যাকেজিং: ব্র্যান্ডের সিল করা প্যাকেটের দাম খোলা বীজের চেয়ে সাধারণত বেশি।
  • পরিমাণ: আপনি যদি ২৫০ গ্রামের ছোট প্যাকেট নেন তাহলে কেজি প্রতি দাম বেশি পড়ে। আর যদি ৫০০ গ্রাম অথবা এক কেজির প্যাকেট নিন তাহলে তুলনামূলক দাম কম হয়
এই বীজের চাষ আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে। রাজশাহী জেলার বাধা উপজেলার অনেক কৃষক এই বীজের চাষ শুরু করেছে। তাই অদূর ভবিষ্যতে দেশি বীজের সরবরাহ বাড়তে পারে। আমাদের দেশে ব্র্যান্ড ও মানের উপর ভিত্তি করে চিয়া সিড এর দামের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। সাধারণত ভালো মানের আমদানিকৃত অথবা লোকাল ব্র্যান্ডের ১০০ গ্রাম চিয়া সিড ৯০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পাওয়ার কথা। 

আর আপনি যদি ভাল ব্র্যান্ডের কিনতে চান তাহলে ২৫০ থেকে ৫০০ গ্রামের বড় জার কিনতে হলে ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকার মতো খরচ হতে পারে। তবে আমি মনে করি খুচরা বা খোলা অবস্থায় কেনার চাইতে প্যাকেটজাত কেনাই ভালো হবে।

👇কোথায় পাবেন খাঁটি চিয়া সিড?

  • দারাজের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম
  • শহরের বড় সুপারশপ যেমন, স্বপ্ন, আগোরা বা মীনা বাজারে সহজেই ভালো ব্র্যান্ডের সিলগালা প্যাকেট পেয়ে যাবেন।
  • নির্ভরযোগ্য অনলাইন গ্রোসারি শপ যেমন—চালডাল, দারাজ বা বিভিন্ন অর্গানিক ফুডের অনলাইন পেজ থেকে ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারেন।
  • এছাড়া যেকোনো বড় মুদির দোকান বা পাইকারি মসলার বাজারেও এখন এই বীজ পাওয়া যায়। কেনার আগে অবশ্যই প্যাকেটের মেয়াদ এবং এক্সপায়ারি ডেট দেখে নেওয়া উচিত।
  • ফেসবুকের অর্গানিক বা হেলদি ফুড পেজ। তবে এখানে বিক্রেতার রিভিউ ভালো পড়ে দেখে নিন।

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ১. গর্ভাবস্থায় কি চিয়া সিড খাওয়া যায়?
উত্তরঃ যদি স্বাভাবিক পরিমাণে খাওয়া যায় তাহলে গর্ভাবস্থায় চিয়া সেডকে নিরাপদ মনে করা হয়। তবে গর্ভকালীন সময়ে খাদ্য তালিকায় নতুন কিছু খাওয়ার যোগ করার পূর্বে চিকিৎসক অথবা কোন পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উত্তম।

প্রশ্ন ২. বাচ্চাদের কি চিয়া সিড দেওয়া যায়?
উত্তরঃ খুবই অল্প পরিমাণে ভালো করে ভিজিয়ে বাচ্চাদের চেয়ার সিড দেওয়া যেতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে শুকনো বীজ কখনোই দেবেন না। যদি শিশুর বয়স কম হয় তাহলে প্রথমে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে নিন।

প্রশ্ন ৩. চিয়া সিড কি গরম পানীতে মেশানো যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ যায়। কারণ গরম পানিতে দিলে এই বীজ আরো দ্রুত জেল হয়ে যায়। তবে এটি খাওয়ার পূর্বে পুরোপুরি জেল তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন । এবং দ্রুত গিলে খাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

প্রশ্ন ৪: চিয়া সিড ও তোকমা দানা কি একই জিনিস?
উত্তর: না এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। তোকমা দানা হল তুলসী প্রজাতির বীজ। যা দেখতে একেবারে কুচকুচে কালো ও গোলাকার হয়ে থাকে। অপরদিকে চিয়া সিড মেক্সিকান উদ্ভিদের বীজ যা দেখতে ছোট ডিম্বাকৃতির এবং এতে সাদা ধসুর ও কালো রঙের মিশ্রণ থাকে।

প্রশ্ন ৫. চিয়া সিড ভেজাতে কতটুকু পানি লাগে?
উত্তরঃ চিয়া সিড ভেজাতে সাধারণত ১ চামচ বীজের জন্য আধা কাপ পানি যথেষ্ট। আপনি যদি ঘন পুডিং বানাতে চান তাহলে ৩ চামচ বীজে কাপ দুধ বা পানি নিন। পানির পরিমাণ কম হলে বীজ দোলা পাকিয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন ৬: চিয়া সিড খাওয়ার কতক্ষণ পর পানি পান করা উচিত?
উত্তর: চিয়া সিড ভেজানো অবস্থায় খেলেও এটি আমাদের পরিপাকতন্ত্রে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে ফেলে। তাই এই বীজ খাওয়ার অন্তত 20 থেকে 30 মিনিট পর এক ক্লাস পানি পান করা উত্তম। সেই সাথে সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পানের অভ্যাস রাখতে হবে।

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে আমার নিজস্ব অভিমত

নিজেদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য আমরা হয়তো নিত্যদিন প্রায় এমন কিছু উপাদানের পেছনে সময় ব্যয় করি, যা আমাদের রাতারাতি সমাধান দেবে বলে দাবি করা হয়। চিয়া সিট নিয়েও বাজারে এত হাইপ দেখে আমিও প্রথম দিকে কিছুটা কৌতূহল হয়েই এটি খাওয়া শুরু করেছিলাম৷ কিন্তু দীর্ঘদিন নিজের খাদ্য তালিকায় রাখা এবং এর পেছনের বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের পর অনেক কিছু বুঝতে পেরেছি।

আপনি যদি মনে করেন প্রক্রিয়াজাত অস্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন সেই সাথে চিয়া সিড খাবেন এবং ফিট থাকবেন তবে আপনার ধারণাটি একেবারেই ভুল। আপনাকে নিয়মিত সুষম খাবার খেতে হবে, পরিমিত ঘুম ও শারীরিক পরিশ্রমও অত্যন্ত জরুরী। সেই সাথে দিনে ১-২ চামচ চিয়া সিড সঠিকভাবে সেবন করেন তাহলে আপনার পাচনতন্ত্র দীর্ঘস্থায়ী এনার্জি পাবে। এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভাবে সাহায্য করবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাল্টিম্যাক্স আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।

comment url