থানকুনি পাতা উপকারিতা: জানুন অজানা ১০টি চমকপ্রদ তথ্য
থানকুনি পাতা উপকারিতা কি জানেন? থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা, খালি পেটে
এর রস খাওয়ার নিয়ম, চুল-ত্বকের যত্ন ও পেটের সমস্যায় এর জাদুকরী ১০টি অজানা গুণ
সম্পর্কে জানতে এখনই পড়ুন!
থানকুনি পাতা শুধু সালাদ নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক ওষুধালয়! জেনে নিন কীভাবে
এটি আপনার স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, ত্বক করে তোলে উজ্জ্বল এবং চুলকে দেয় নতুন
প্রাণ। থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম, থানকুনি পাতা কেন এত পরিচিত, উপকারিতা ও
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত গাইড এখনই পড়ুন।
পোস্ট সূচীপত্রঃ থানকুনি পাতা উপকারিতা/ থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
- থানকুনি পাতার বৈজ্ঞানিক নাম ও পরিচিতি
- থানকুনি পাতার পুষ্টিগুণ ও উপাদানসমূহ
- থানকুনি পাতা উপকারিতা জানুন
- থানকুনি পাতা সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য
- থানকুনি পাতার রস খেলে কি হয়
- থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম
- চুলের জন্য থানকুনি পাতার উপকারিতা
- ত্বকের যত্নে থানকুনি পাতার ব্যবহার
- থানকুনি পাতার অপকারিতা জানুন
- থানকুনি পাতা সংরক্ষণ ও চাষ পদ্ধতি
- বিভিন্ন অঞ্চলে থানকুনি পাতার জনপ্রিয় রেসিপি
- থানকুনি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্তর
- থানকুনি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে আমার নিজস্ব অভিমত
থানকুনি পাতার বৈজ্ঞানিক নাম ও পরিচিতি
আমাদের গ্রাম বাংলার উঠোনে পুকুরপাড় কিংবা আদ্র ছোট ছোট মাঠে জন্মানো এই
থানকুনি পাতা সকলেরই প্রায় চেনা। সাধারণ কিন্তু এই সাধারণ দেখতে পাতাটির আসল
পরিচয়টা কী? আজকে এটি সম্পর্কে জানাবো-
থানকুনি পাতার বৈজ্ঞানিক নাম হলো Centella asiatica। উদ্ভিদবিজ্ঞানে একে
Apiaceae পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইংরেজিতে একে Indian
Pennywort, Gotu Kola বা Marsh Pennywort বলা হয়। একটি আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে
থানকুনি শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কা, এমনকি আফ্রিকা ও
অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশেও জন্মায়। তবে আমাদের দেশে এই পাতার ব্যবহার সবচেয়ে
পুরনো।
আয়ুর্বেদ ও ইউনানী
এবং চীনা বহু বছর ধরে এই থানকুনি পাতার ব্যবহার সমাদৃত। গবেষণায় দেখা গেছে যে
এতে ম্যাড্রকাসসাইড, অ্যাসিয়াটিকোসাইড এবং বিভিন্ন প্রকারের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
রয়েছে এই পাতার মধ্যে। যা আমাদের শরীরের কোষ মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে
বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
থানকুনি পাতার পুষ্টিগুণ ও উপাদানসমূহ
এই ছোট পাতায় লুকিয়ে রয়েছে বহু পুষ্টিগুণ! থানকুনি পাতার পুষ্টিগুণ ও
উপাদানসমূহ জানলে আপনি নিশ্চয়ই অবাক হবেন।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১০০ গ্রাম থানকুনি পাতার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে
ভিটামিন সি থাকে, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে।
ছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এছাড়াও রয়েছে থায়ামিন ও
রাইবোফ্লাভিন যা স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখতে দারুন কাজ করে। খনিজ উপাদানের দিক
থেকেও থানকুনি পাতা সমৃদ্ধ।
এর মধ্যে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন এবং জিংকের মতো উপাদান প্রচুর
পরিমাণে রয়েছে যা আমাদের শরীরের হাড়কে মজবুত করে এবং রক্তশূন্যতাকে দূর করে।
তবে থানকুনি পাতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এর
মধ্যে থাকা ম্যাডেকাসসাইড, অ্যাসিয়াটিকোসাইড এবং অ্যাসিয়াটিক এসিডের মত উপাদান
আমাদের কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং ত্বকের কলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে।
থানকুনি পাতা উপকারিতা
ছোটবেলায় আমরা অনেকেই দাদি নানীর হাতে থানকুনি পাথর ভর্তা খেয়েছি। এখন বুঝতে
পারি এই সাধারণ পাতার মধ্যে রয়েছে বহু উপকারী গুনাগুন। থানকুনি পাতার উপকারিতা
ও অপকারিতা সম্পর্কে জানবো তার আগে চলুন জেনে নেয়া যাক থানকুনি পাতা
উপকারিতা গুলো কি কি-
১। হজমশক্তি ও পেটের গোলযোগ দূর করতে থানকুনির ব্যবহারঃ বাঙালি মাত্রই কোনো না
কোনো সময় পেটের সমস্যায় ভুগেছেন। বদহজম, গ্যাস্ট্রিক কিংবা পেটে গ্যাস জমে
যাওয়ার মতো সমস্যায় থানকুনি পাতার রস মহৌষধের মতো কাজ করে। বিশেষ করে ছোটদের বা
বড়দের যদি পাতলা পায়খানা বা আমাশয় মত সমস্যা দেখা দেয় তাহলে বহুকাল ধরেই এই
পাতার রস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। এটি আমাদের অন্ত্রের ক্ষতিকর জাতীয়
ব্যাকটেরিয়া গুলোকে দূর করে পরিপাকতন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখে।
২। স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সতেজতা বাড়াতে থানকুনির ব্যবহারঃ বর্তমান সময়ে কাজের
চাপ বা বয়সের ছাপের কারণে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে
দাঁড়িয়েছে। গবেষণে উঠে এসেছে থানকুনি পাতায় থাকা কিছু বিশেষ
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল কে সচল করে। ঠিক এর ফলেই
স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়,মনোযোগ বাড়ে এবং মানসিক অবসাদ কিংবা অ্যাংজাইটি অনেকটাই
কমে যায়। বিশেষ করে যারা সারাদিন বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করেন তাদের জন্য এটি একটি
দারুন প্রাকৃতিক ঔষধ ।
৩। রক্ত সঞ্চালন ও শারীরিক শক্তি বৃদ্ধিতে থানকুনির উপকারিতাঃ আমাদের শরীরে যদি
রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো না হয় তাহলে শরীর অবসাদ জেঁকে বসে। এই থানকুনি পাতা
আমাদের রক্ত চলাচল সচল রাখে এবং শিরা-উপশিরায় রক্তপ্রবাহ সঠিক রাখতে সাহায্য
করে। এর ফলে পায়ের ফোলাভাব কিংবা দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তিতে অনেকটাই স্বস্তি মিলে।
৪। ত্বকের যত্নে থানকুনি পাতা উপকারিতাঃ এটি নিয়ে আলাদাভাবে বলার আর প্রয়োজন
নেই। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বকের কলাজেন উৎপাদন বাড়ায় যা
বলিরেখা দূর করে এবং ত্বককে করে তোলে আরো উজ্জ্বল। কেউ ব্রণ, দাগ বা
পিকমেন্টেশন এর মত সমস্যায় ভুগলে থানকুনি পাতার রস বা পেস্ট লাগিয়ে দেখতে
পারেন আশা করি আশানুরূপ ফল পাবেন।
৫। নার্ভাস সিস্টেম শান্ত করা ও ভালো ঘুমঃ যারা অনিদ্রা বা মানসিক অস্থিরতায়
ভোগেন তাদের জন্য থানকুনি পাতার বিকল্প নেই। এর মধ্যে এমন কিছু ফাইটোকেমিক্যাল
রয়েছে যা আমাদের স্নায়ুতন্ত্র কে শান্ত করে তোলে। ঘুমের ঔষধ বা কেমিক্যাল
ঔষধের উপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিকভাবে মান উন্নত করতে এই পাতার জুরি মেলা ভার।
৬। খুশকি দূর ও চুলের গোড়া মজবুত করা করতে থানকুনির উপকারিতাঃ এটি শুধু ত্বক ও
পেটের জন্যই উপকারী এমন নয়। সে সাথে চুলেরও উপকারী রয়েছে ভিন্ন এক ব্যবহার।
খুশকির সমস্যা দূর করতে এই পাতা বেটে বা এর রস মাথার স্ক্যাল্পে নিয়মিত
ব্যাবহার করা যেতে পারে। এটি ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে
যায় যার ফলে চুল পড়া কমে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
৭। প্রস্রাবের জ্বালাভাব কমাতে ঐতিহ্যগত ব্যবহার: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে থানকুনিকে
মূত্রবর্ধক গুল্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গরমের সময় যাদের প্রস্রাবের
জ্বালাপোড়া হয় তারা অনেকেই এর রস পান করেন। এটি শুধুমাত্র হালকা সমস্যার
ক্ষেত্রে। যদি জ্বালার সঙ্গে জ্বর ব্যথা বা রক্ত যায় তাহলে অতি দ্রুত
ডাক্তারের কাছে যান।
৮। হাড় মজবুত করতে থানকুনি পাতা উপকারিতা: থানকুনি পাতার মধ্যে ক্যালসিয়াম ও
ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। যাদের হাড়ের ক্ষয় বা
আর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যা রয়েছে তারা থানকুনি পাথর ব্যবহার করতে পারেন।
থানকুনি পাতা সম্পর্কে ১০টি অজানা তথ্য
এই পাতা কমবেশি আমরা সকলেই চিনি কিন্তু এর পেছনের কিছু মজার তথ্য আমাদের সকলের
জানা নেই চলুন জেনে নেই-
- ১. পুরো পৃথিবী জুড়ে এর বহু নাম রয়েছে। বাংলায় থানকুনি, শ্রীলঙ্কায় গোটু কোলা, ইংরেজিতে সেন্টেলা বা ইন্ডিয়ান পেনিওয়ার্ট নামে ডাকা হয়। ফ্রান্স সহ ইউরোপে স্কিনকেয়ার জগতে এটিকে Cica বলা হয়ে থাকে। মূলত নাম অনেক হলেও উদ্ভিদ কিন্তু একটাই ।
- ২. এটি এক প্রকার লতা জাতীয় গাছ। থানকুনি পাতা মাটির উপর দিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়। লতার প্রতিটি গিঁট থেকেই নতুন করে আরেকটি শিকড় ও চারা গজায়। এত সহজে ছড়িয়ে পড়ার কারণে চাষ করাও তুলনামূলক সহজ।
- ৩. ত্বকের যত্নে এটি এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। বিশেষ করে কোরিয়ান স্কিনকেয়ারে "Cica" ক্রিম, সিরাম ও মাস্ক খুব পরিচিত। আমাদের বাড়ির পাশের এই পাতা এখন বিভিন্ন দামি প্রসাধনের উপাধিন হিসেবে ব্যবহৃত হয় ।
- ৪. এর বৈজ্ঞানিক নাম সেন্টেলা এশিয়াটিকা। এই নাম দ্বারাই বোঝা যায় এটি একটি এশিয়া অঞ্চলের উদ্ভিদ। ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বহু শতক ধরে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- ৫. থানকুনি ও ব্রাহ্মীশাক এক নয়। অনেকে এই দুইটি চিনতে ভুল করে ফেলেন। থানকুনি পাতা গোল ও এর কিনারা খাচকাটা হয়। ব্রাহ্মীর পাতা লম্বাটে ও পুরু। তাই দুটি কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা উদ্ভিদ।
- ৬. জন্মস্থানের ওপর এর গুণ নির্ভর করে। কড়া রোদে জন্মালে পাতা বেশি তেতো হয়, আর যদি ছায়ায় জন্মায় তাহলে হয় নরম। আবার জন্মস্থান যদি হয় দূষিত জলাশয় তাহলে ক্ষতিকর পদার্থ এর মধ্যে থাকতে পারে। তাই কোথা থেকে পাতা আনছেন, সেটাও জরুরি বিষয়।
- ৭. অনেক জায়গাতেই এটিকে আগাছা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমরা এটিকে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করি কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশ রয়েছে যেখানে এটি সহজলভ্য হওয়ায় একে আগাছা বলা হয়। দেখেছেন একই উদ্ভিদ কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি দুই রকম।
- ৮. হাতিও নাকি এই পাতা খায়, এমন প্রচলিত বিশ্বাস আছে। শ্রীলঙ্কা ও ভারতে একটি জনপ্রিয় লোকবিশ্বাস আছে যে হাতি দীর্ঘদিন বাঁচে ও তার স্মৃতিশক্তি প্রখর, কারণ সে থানকুনি জাতীয় পাতা খায়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়, কিন্তু এই গল্প থেকেই থানকুনিকে "স্মৃতির পাতা" বলার চল শুরু হয়েছে বলে ধরা হয়।
- ৯. এটি ডাঙ্গা ও পানি দুই জায়গাতেই বাঁচতে পারে। থানকুনি পাতা সাধারণত স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে বেশি জন্মায়। তবে কোন জায়গায় যদি অল্প পরিমানে পানি জমে থাকে এটি হতে পারে। এজন্য অনেক দেশেই একুরিয়ামের পাশে বা পুকুরের কিনারায় সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এটি লাগানো হয়।
- ১০. পাতার আকার দেখে বোঝা যায় কোথায় জন্মেছে। ছায়ায় ও আর্দ্র জায়গায় জন্মালে পাতা বড়, নরম ও গাঢ় সবুজ হয়। কড়া রোদে জন্মালে পাতা ছোট, শক্ত ও কিছুটা হলদেটে হয়। বাজারে কেনার সময় এটি দেখে ভালো পাতা বেছে নেওয়া যায়।
থানকুনি পাতার রস খেলে কি হয়?
পাতা চিবিয়ে খাওয়ার চেয়ে রস করে খেলে শরীর দ্রুত পুষ্টি শোষণ করে।থানকুনি
পাতার রস খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। গরমের দিনে বা শরীর গরম থাকলে এই রস খেলে
তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়। এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষ করে
গরমের দিনে শরীরকে ঠান্ডা রাখার জন্য থানকুনি পাতার রস একটি কার্যকর উপায়।
রস করে খেলে গলার সমস্যা দূর হয়। যাদের গলা ব্যথা, কাশি বা স্বরভঙ্গের সমস্যা
আছে, তাদের জন্য থানকুনি পাতার রস উপকারী। এটি গলার প্রদাহ কমায় এবং গলা
পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। মাথাব্যথা কমাতে থানকুনি পাতার রস জাদুকরী।
মাইগ্রেন বা টেনশন হেডব্যাকের সমস্যায় এই রস খেলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। এটি
মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে।
রস করে খেলে দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। থানকুনি পাতার রসের মধ্যে এমন
কিছু উপাদান রয়েছে যা আমাদের মাড়ির সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং সেই সাথে
দাঁত কে মজবুত রাখে। থানকুনি পাতার রস আরেকটি চমৎকার কাজ করে সেটি হল আমাদের
শরীরকে ভেতর থেকে হাইড্রেট করে। সেই সাথে আমাদের রক্তকে তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধন
করে।
যাদের বহুদিন যাবত ক্লান্তি বা অলসতা রয়েছে তারা এক গ্লাস তাজা রস খেলে শরীরে
এক নিমেষেই প্রাণচঞ্চল্য ফিরে পেতে পারেন। এছাড়া এর রস কিডনির কার্যকারিতা
স্বাভাবিক রাখতে এবং মূত্রনালীর ইনফেকশন কমাতে দারুনভাবে কাজ করে।
থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম: কখন, কীভাবে এবং কতটুকু খাবেন?
থানকুনি পাতার উপকারিতা
ও অপকারিতা
একি মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। সুতরাং আপনি যদি কোন প্রকারের ঔষধ থেকে শতভাগ উপকার
পেতে চান তাহলে সেটিকে সঠিকভাবে খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। থানকুনি পাতা খাওয়ার
ক্ষেত্রেও কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা উচিত-
আপনি যদি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৫-৭টি কচি থানকুনি পাতা ভালো করে চিবিয়ে
খান তাহলে এর সর্বোত্তম কার্যকারিতা পেতে পারেন। যাদের কাঁচা পাতা চিবুতে
সমস্যা রয়েছে তারা চাইলে সামান্য পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে অথবা শিল্প পাটাই
বেটে এক চা চামচ রস তৈরি করে খেয়ে নিতে পারেন। সেই সাথে এর স্বাদ আরো বাড়াতে
চাইলে সামান্য মধু বা এক চিমটি গোলমরিচ গুঁড়ো এর সাথে মিশিয়ে নিতে পারেন।
আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে এটি কোন ঔষধ নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে
প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি পাতা বা এর সমপরিমাণ রস খাওয়া যুক্তিযুক্ত।
👉থানকুনি পাতা কীভাবে খাওয়া যায়?
থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম ও উপায় অনেক, আর প্রতিটির স্বাদ আলাদা। বাড়িতে
সহজেই বানানো যায়।
- ভর্তা: পাতা কুচি করে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও সামান্য সরষের তেল দিয়ে মাখুন। গরম ভাতের সঙ্গে দারুণ লাগে।
- রস: পাতা বেটে ছেঁকে লেবু মিশিয়ে এক কাপ পান করুন।
- চা: কয়েকটি পাতা গরম পানিতে ৫ মিনিট ভিজিয়ে ছেঁকে নিন।
- সালাদ বা সবজিতে: কাঁচা সালাদে অল্প মিশিয়ে অথবা রান্নার শেষে কয়েকটি পাতা ছেড়ে দিন। মনে রাখবেন যেভাবেই খান, আগে ভালো করে ধুয়ে নিন।
চুলের জন্য থানকুনি পাতা উপকারিতা
চুল পড়া খুশকি আর রুক্ষতা নিয়ে সকলেরই চিন্তার শেষ নেই। কেমিক্যালের ভিড়ে
চুলকে ভালো রাখতে আমরা কত কিছুই না ব্যবহার করি। কিন্তু রান্নাঘর বা বাগানের
কোণে অবহেলায় বেড়ে ওঠা থানকুনি পাতায় হতে পারে আপনার চুলের সকল সমস্যার
প্রাকৃতিক সমাধান। মাথার ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এই পাতার কার্যকারিতা
অনন্য।
এই পাতার মধ্যে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান স্কেলপে রক্ত চলাচল কে বাড়িয়ে
দেয়, আমাদের চুলের গোড়া হয়ে যায় মজবুত এবং চুল পড়া একাংশে কমে যায়।
থানকুনি পাতার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টিফাঙ্গাল গুন মাথার
ত্বকে খুশকির জমা প্রতিরোধ করে এবং চুলকানির মত সমস্যাগুলিকে সহজেই দূর
করে।
চুলের যত্নে এটি ব্যবহারের জন্য একটি চমৎকার ঘরোয়া উপায় রয়েছে। চুলের হেয়ার
প্যাক তৈরি করার জন্য থানকুনি পাতা ভালো করে বেটে এর সাথে সামান্য টক দই বা
খাঁটি নারিকেল তেল মিশিয়ে নিতে পারেন। এই হেয়ার প্যাকটি মাথায় ভালোবে
লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। আপনি যদি সপ্তাহে অন্তত ১ দিন নিয়ম
করে এই হেয়ার প্যাকটি ব্যবহার করেন তাহলে চুল প্রাকৃতিকভাবেই হয়ে উঠবে সিল্কি
উজ্জ্বল ও ঘন। কেমিক্যাল এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দিয়ে এই সহজ ঘরোয়া
টোটকাটি ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার চুলকে দিতে পারেন এক অনন্য ছোঁয়া।
ত্বকের যত্নে থানকুনি পাতার ব্যবহার
আপনি কি কখনো দামি ক্রিমের লেভেলে Cica শব্দটি দেখেছেন? এটি হচ্ছে থানকুনির
একটি আন্তর্জাতিক নাম। আমাদের ঘরের পাশের অতি সাধারণ এই পাতা এখন বিশ্বের স্কিন
কেয়ার প্রোডাক্ট এর জনপ্রিয় একটি নাম। তাহলে ত্বকের যত্নে এই পাতার ব্যবহার
অবশ্যই জেনে রাখা আমাদের কতটা দরকার তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।
আমাদের ত্বকের তারুণ্যকে ধরে রাখতে কোলাজেন একটি প্রোটিনের নাম। থানকুনি পাতার
মধ্যে এমন কিছু বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে যা ত্বকের ক্লোজেন স্বাভাবিক রাখতে
সাহায্য করে। ফলে ত্বকের বলিরেখা, বয়সের ছাপ কিংবা ফাইন লাইনস দূর হতে শুরু
করে। এছাড়াও এটি মুখের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব, ব্রণের দাগ কিংবা রোদে পড়া
কালচে দাগ কমাতে দারুণভাবে কাজ করে
👉ঘরে ব্যবহারের সহজ উপায়-
- ফেস প্যাক: এক মুঠো পাতা নিয়ে প্রথমে বেটে নিন এরপর এক চামচ মধু মেশান। এরপর এই প্যাকটি মুখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
- তেলতেলে ত্বকের জন্য: যাদের ত্বক তেলতেলে ভাব থাকে তারা বাটা পাতার সঙ্গে এক চামচ মুলতানি মাটি ও গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাকটি বানাতে পারেন।
- ব্রণের দাগে: পাতার রস তুলায় নিয়ে দাগের জায়গায় হালকা লাগান। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।
- টোনার: টোনার বানানোর জন্য প্রথমত পাতা ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন। ফ্রিজে রেখে সেটিকে দুই দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন।
প্রথমে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে এই প্যাকটি লাগিয়ে ২০ মিনিট পর্যন্ত রেখে
দিন। এরপর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলুন। আপনি যদি সপ্তাহে .২দিন
এই ঘরোয়াটর প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন তাহলে আপনার ত্বক হবে নরম পরিষ্কার ও
সতেজ। কেমিক্যাল এর বিভিন্ন প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে এই প্রাকৃতিক উপায়টি
ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার ত্বকে দারুন পরিবর্তন আনা সম্ভব।
👉ভেতর থেকে যত্ন-
শুধু বাইরে লাগালেই হয় না। ত্বকের জন্য পর্যাপ্ত পানি, ঘুম আর সুষম খাবারও
জরুরি। সপ্তাহে কয়েকদিন থানকুনির রস বা চা খেলে খাদ্যতালিকায় ভালো সংযোজন
হয়।
থানকুনি পাতার অপকারিতা
প্রকৃতির প্রত্যেকটি উপাদানের একটি ভাল দিক রয়েছে তেমনি রয়েছে বিপরীত দিক।
থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা মধ্যে থানকুনি পাতা যে আমাদের স্বাস্থ্যের
জন্য কতটুকু উপকারী তা আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি কিন্তু এর কিছু পার্শ্ব
প্রতিক্রিয়া বা অপকারিতা সম্পর্কেও আমাদের জেনে রাখাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রথমত, অতিরিক্ত মাত্রায় থানকুনি পাতা বা এর রস খেলে অনেকের ক্ষেত্রে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেট ফাঁপা, মৃদু বমি ভাব কিংবা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।
- দ্বিতীয়ত, যাদের এলার্জির সমস্যা রয়েছে কিংবা যাদের ত্বক অতি সংবেদনশীল তারা কাঁচা পাতা বা পেস্ট ত্বকে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে সংবেদনশীল ত্বকে এটি লাগানোর পর চুলকানি বা লালচে ভাব অথবা হ্রাসের মতো বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে ।
- তৃতীয়ত, গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত এই পাতার সেবন থেকে দূরে থাকতে হবে। এই পাতার রস আমাদের শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও যাদের নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপ পিত্তথলির সমস্যা বা অতিরিক্ত ঘুমের কারণে ওষুধ সেবন করে থাকেন তারা এই পাতার রস খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।
- থানকুনি পাতার অপকারিতা মধ্যে আরেকটি হচ্ছে মাথা ব্যাথা। অতিরিক্ত পরিমাণে থানকুনি পাতা খেলে মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। যারা প্রথমবার খায় তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা দেয়।
- যেকোনো ধরনের ঔষধ বা ঘরোয়া উপাদান পরিমিত পরিমাণে এবং নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করাই একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাজ। অপরাপর শরীরে কোন প্রকারের জটিলতা থাকলে ডাক্তারের সাথে কথা বলার পরেই এই অভ্যাস চালু করা নিরাপদ।
থানকুনি পাতা সংরক্ষণ ও চাষ পদ্ধতি
বর্তমান বাজারে এখন ভেজাল আর ফরমালিনের ছড়াছড়ি তাই
খাঁটি ভেষজ উপাদান
হাতের কাছে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর। এই ভেজাল থেকে রক্ষা পেতে বারান্দার টপ কিংবা
ছাদ বাগানে যদি ছোট্ট একটি খামার দেওয়া যায় তাহলে কেমন হয় বলুন তো? একদম কম
পরিশ্রমে এবং সামান্যতম যত্নে এ লতা গাছ দারুনভাবে বেড়ে ওঠে।
👉টবে বা মাটিতে সহজ চাষ পদ্ধতিঃ
- থানকুনি চাষ করার জন্য খুব বেশি জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির টপ, ছাদের প্লাস্টিকের ড্রাম অথবা উঠানোর স্যাতসেতে কোনায় এটি অনায়াসেই লাগানো যায়। এই গাছ লাগানোর জন্য আদর্শ মাটি হল দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি, এর সাথে যদি আপনি সামান্য জৈব সার বা গোবর মিশিয়ে নিতে পারেন তবে আরো ভালো ফলাফল পাবেন।
- মূলসহ থানকুনির চারা অথবা লতা রোপন করলেই কয়েক দিনের মধ্যেই শেখর ছড়িয়ে পুরোটা ভরে যায়। এই গাছের প্রধান শর্ত হলো রস বা আদ্রতা। তাই নিয়মিতভাবে পানি দিতে হবে যেন এটি শুকিয়ে না যায়। রোদ এবং ছায়ার মিশ্রিত স্থানে এর বৃদ্ধির সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।
👉দীর্ঘদিন তাজা রাখার সহজ সংরক্ষণ কৌশলঃ
- একসঙ্গে অনেকগুলো থানকুনি পাতা বাজার থেকে আনা হলে বা বাগান থেকে তুললে কয়েকদিনের মধ্যে পচে যাওয়ার ভয় থাকে। এগুলো দীর্ঘদিন ভালো রাখার দারুণ কিছু ঘরোয়া টিপস রয়েছে। পাতা গুলোকে ভালোমতো ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।
- এরপর একটি এয়ারটাইট বক্সে বা খবরের কাগজে মুড়িয়ে ফ্রিজের ভেজিটেবল কম্পার্টমেন্টের রেখে দিলে অনায়াসেই ৭-১০ দিন পর্যন্ত একদম টাটকা থাকে। এছাড়াও আপনি চাইলে পাতাগুলোকে রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে কাচের জারে সংরক্ষণ করতে পারেন যা পরবর্তীতে আপনি জুস অথবা রান্নায় ব্যবহার করতে পারবেন।
বিভিন্ন অঞ্চলে থানকুনি পাতার জনপ্রিয় রেসিপি
একই পাতা, কিন্তু প্রতিটি অঞ্চলে তার রূপ আলাদা। কোথাও ভর্তা, কোথাও সালাদ,
কোথাও আবার নারকেলের সঙ্গে মাখা। জেনে নিন থানকুনি পাতার জনপ্রিয় রেসিপি ও
খাওয়ার বৈচিত্র্য, যা আপনার রোজকার পাতে নতুন স্বাদ আনতে পারে।
১। বাংলাদেশে: ভর্তা ও ডালের সঙ্গে
- ভর্তা ও ডালের সঙ্গে থানকুনি পাতার ব্যবহার আমাদের দেশের সবচেয়ে বেশি সমাদ্রিত। পাতা কুচি করে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ লবণ ও সরষের তেলের সাথে ভালো মত মাখা হয়। কোথাও কোথাও সামান্য ভাজা শুকনো মরিচ আর রসুনও দেওয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে অনেকেই মসুর ডালের রান্নার শেষ মুহূর্তে কয়েকটি পাতা ছেড়ে দেন। এতে করে ডালে একটা স্বাদ আসে, যা ভাতের সঙ্গে খেতে অনেক ভালো লাগে। কেউ কেউ আবার ইলিশ বা ছোট মাছের ঝোলের সঙ্গেও তিতা পাতা খান। তিতার সাথে মাছের মিষ্টির স্বাদ ভালোই লাগে।
- মুচমুচে থানকুনি পাতার বড়া বা পাকোড়া: পরিবারের সন্তানরা বা অন্যান্য সদস্যদের অনেকেই কাঁচা পাতা খেতে পছন্দ করেন না। তাদের ক্ষেত্রে থানকুনি পাতার বড়া এক চমৎকার সমাধান। পাতাগুলোকে কচিয়ে বা আস্ত রেখে তার সাথে মসুর ডালের বাটা, চালের গুড়া, পেঁয়াজকুচি, হলুদ গুঁড়ো এবং লবণ দিয়ে একসাথে মেখে ডো তৈরি করা হয়। এরপর ডুবো তেলে বা হালকা তেলে মচমচ করে ভেজে নিলে তৈরি হয় সুস্বাদু এক ধরনের বড়া। বিকেলের নাস্তায় চায়ের সাথে এই বড়া যেমন মুচমুচে তেমনি পুষ্টিতে ভরপুর।
২। পশ্চিমবঙ্গে: শুক্তো ও পাতা বাটায়
- পশ্চিমবঙ্গে সুপ্ত ও পাতা বেটে ভাতের সাথে খাওয়ার প্রচলন বহু আগের। অনেক পরিবারেই এটিকে তিতা পদের তালিকায় রাখেন। বাটার সঙ্গে সামান্য সরষের তেল আর কাঁচালঙ্কা দিলেই এর সাদ আরো বেড়ে যায়।
৩। শ্রীলঙ্কায়: গোটু কোলা সাম্বোল
- শ্রীলঙ্কায় থানকুনি পাতা গোটু কোলা নামে পরিচিত। আর সেখানকার জনপ্রিয় পদ হচ্ছে গোটু কোলা সাম্বল। এটি রান্না করতে পাতার সাথে নারিকেল কোরা, পেঁয়াজ, শুকনো মরিচ আর লেবুর রস দেওয়া হয়। রুটি বা ভাতের সাথে এটি হালকা সালাদের মত খাওয়া হয়। শ্রীলঙ্কায় থানকুনির পাতা দিয়ে পানীয়ও বানানো হয়।
৪। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে: পানীয় ও সালাদ
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থানকুনি পাতার রস বা পানীয় বেশ জনপ্রিয়। ভিয়েতনামে থানকুনির রসের সাথে চিনি বা লেবু মিশিয়ে ঠান্ডা পানীয় হিসেবে অনেকে খেয়ে থাকে। থাইল্যান্ডে এটি সালাদ ও নুডুলসের সঙ্গে কাঁচা পাতা হিসেবেও পাওয়া যায়।
৫। ভারতের দক্ষিণাঞ্চল:
- ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে থানকুনি পাতা দিয়ে পচড়ী তৈরি করা হয়। পাতাগুলোকে কুচি করে ডাল বা ভাতের সাথে মিশিয়ে খাওয়া হয়। এটি হজমে খুব উপকারী।
অন্যান্য উপায়:
- থানকুনি পাতা দিয়ে চাটনিও তৈরি করা যায়। পাতাগুলো ধনেপাতা, কাঁচামরিচ এবং লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে চাটনি তৈরি করা হয়। এটি পরোটা বা পরোটার সাথে খেতে খুব ভালো।
- নতুন স্বাদ চাইলে ভর্তায় নারকেল কোরা মিশিয়ে দেখুন। শ্রীলঙ্কান ধাঁচের স্বাদ পাবেন। অথবা দইয়ের সঙ্গে কুচি পাতা মিশিয়ে হালকা রায়তা বানাতে পারেন। তিতা বেশি লাগলে অল্প চিনি বা লেবুর রস মিশিয়ে নিন।
থানকুনি পাতা উপকারিতা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১. থানকুনি পাতা কি স্মৃতিশক্তি বাড়ায়?
উত্তরঃ ঐতিহ্যগতভাবেই এই পাতাকে মস্তিষ্কের টনিক বলা হয়। বিভিন্ন ছোট গবেষণায়
মনোযোগ ও মানসিক স্বস্তির ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা গিয়েছে। কিন্তু
স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এটি বলার মতন যথেষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন ২. থানকুনি পাতার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?
উত্তরঃ বেশি খেলে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বমিভাব বা পেটব্যথা হতে পারে। কারও
ত্বকে চুলকানি বা র্যাশও হয়। অস্বস্তি হলে খাওয়া বন্ধ করুন।
প্রশ্ন ৩. থানকুনি পাতার গুঁড়ো কীভাবে বানাব?
উত্তরঃ প্রথমত পাতাকে ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে পুরোপুরি শুকিয়ে নিন। মচমচে
হলে ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করে বায়রোধী কৌটার মধ্যে রাখুন। এটি একটু ভেজা থাকলেও
ছত্রাক জন্মে তাই পুরোপুরি শুকানো জরুরী।
প্রশ্ন ৪. পুকুরপাড়ের থানকুনি কি খাওয়া নিরাপদ?
উত্তরঃ যদি পুকুর পরিষ্কার থাকে ও আশেপাশে নর্দমা বা কারখানার বর্জ না থাকে
তাহলে খাওয়া নিরাপদ। তবুও ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। আর যদি আপনি এগুলো নিশ্চিত
না হতে পারেন তবে নিজের টবে চাষ করে সবচেয়ে উত্তম।
প্রশ্ন ৫. থানকুনি পাতা কি রান্না করে খেলে গুণ নষ্ট হয়?
উত্তরঃ অল্প আঁচে অল্প সময় রান্না করলে ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়। বেশি ভাজলে বা
বেশিক্ষণ ফোটালে ভিটামিন সি এর মতন তাপ সংবেদনশীল উপাদান গুলো নষ্ট হয়ে যেতে
পারে ।
থানকুনি পাতা উপকারিতা সম্পর্কে আমার নিজস্ব অভিমত
ছোটবেলায় মায়ের হাতে এক চামচ থানকুনি পাতার রস খাওয়া থেকে শুরু করে আজকের
ব্যস্ত সময়ে এসে এর কার্যকারিতা উপলব্ধি করা। পুরো যাত্রাটায় মনে হয়েছে প্রকৃতি
আমাদের হাতের কাছেই কত বড় আশীর্বাদ লুকিয়ে রেখেছে। আধুনিক কেমিকেল যুক্ত
সাপ্লিমেন্টের পিছনে না ছুটে আমরা যদি একটু সচেতন ভাবে আমাদের আশেপাশের
প্রাকৃতিক ওষুধগুলো ব্যবহার করি তাহলে শরীর আর সুস্থ এবং স্বাভাবিক থাকবে
।
আমার মতে, থানকুনি রোজকার খাবারে সহজে যোগ করার মতো একটি ভালো পাতা। তবে একে আমি
ওষুধ বলব না। পরিমিত খান, পরিষ্কার জায়গা থেকে পাতা বেছে নিন আর শরীরের
প্রতিক্রিয়ার দিকে লক্ষ্য করুন। কোনো রোগ বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে আগে
চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।




মাল্টিম্যাক্স আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।
comment url