ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা: ২ মিনিটেই খুঁজে নিন আপনার নিকটস্থ অফিস

ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা খুঁজছেন? এখানে হেড অফিসের যোগাযোগ তথ্য, ঢাকা, গাজীপুর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার শাখার তথ্য ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং ব্র্যাক অফিসের শাখা তালিকা অনলাইনে দেখার সহজ উপায় জানতে সম্পূর্ণ গাইডটি পড়ুন।
ব্র্যাক-এনজিও-শাখা-তালিকা
ব্র্যাক এনজিও বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ঋণ, সঞ্চয়, স্বাস্থ্যসেবা বা অন্যান্য প্রয়োজনে নিকটস্থ ব্র্যাক শাখার ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য খুঁজে থাকেন। কিন্তু অনেকেই সঠিক শাখা বা হেড অফিসের তথ্য খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েন। তাই এই গাইডে একসঙ্গে সবকিছু তুলে ধরা হয়েছে যাতে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত খুঁজে পেতে সুবিধা হয়।

পোস্ট সূচীপত্র: ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা

ব্র্যাক এনজিও কী? সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে সিলেটের সুনামগঞ্জে একজন মানুষ ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। তাঁর নাম স্যার ফজলে হাসান আবেদ। সেই ছোট উদ্যোগই আজকের ব্র্যাক। প্রশ্ন হলো, ব্র্যাক এনজিও কী?
ব্র্যাক আসলে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। এর পূর্ণরূপ Building Resources Across Communities। শুরুতে অবশ্য নাম ছিল Bangladesh Rehabilitation Assistance Committee। 

যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এই কাজ শুরু হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে কাজ শুরু হলেও ব্র্যাক খুব দ্রুতই বুঝতে পেরেছে যে স্থায়ী উন্নয়নের জন্য স্বাবলম্বী হওয়া জরুরি। তাই তারা ক্ষুদ্রঋণ নয়, বরং ‘মাইক্রোফাইন্যান্স’ এবং সামাজিক ব্যবসার এক অনন্য মডেল দাঁড় করায়, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে। 

বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ব্র্যাকের ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো দেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। আজ ব্র্যাক দুনিয়ার অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের সব জেলায় তো বটেই, এশিয়া ও আফ্রিকার ১৩টির বেশি দেশে এর কার্যক্রম চলছে। একটা তথ্য বেশ চমকপ্রদ। সেটা হল ব্র্যাকের মোট বাজেটের মাত্র ১০ শতাংশ আসে দাতাদের কাছ থেকে। বাকি অর্থ আসে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক উদ্যোগ এর অর্জিত আয় থেকে। এতে সংস্থাটি অনেকটাই স্বনির্ভর। ব

বর্তমানে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। তিনি ২০১৯ সাল থেকে এই দায়িত্বে আছেন। ব্র্যাক ব্যাংক, বিকাশ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানও এই পরিবারেরই অংশ। সুতরাং, ব্র্যাক শুধু ঋণ দেওয়ার সংস্থা নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন ব্যবস্থা, যা কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দিয়েছে।

ব্র্যাক এনজিওর প্রধান কার্যক্রম

ব্র্যাকের নাম শুনলেই অনেকে শুধু ঋণের কথা ভাবেন। কিন্তু আসল চিত্র অনেক বড়। ব্র্যাক এনজিওর প্রধান কার্যক্রম আসলে একাধিক খাতে বিস্তৃত। 
  • প্রথমেই আসে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি। গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে শহরের ছোট ব্যবসায়ী, সবাই এখান থেকে সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারেন। কৃষি ঋণ, শিক্ষা ঋণ ও জরুরি ঋণের মতো আলাদা আলাদা ক্যাটাগরিও রয়েছে।
  • শিক্ষা খাতেও ব্র্যাকের ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। ১৯৮৫ সাল থেকে চলা এই কর্মসূচিতে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার কাজ হয়। সাম্প্রতিক পাঁচ বছরে প্রায় ছয় লাখ চুয়াল্লিশ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করেছে, যাদের অর্ধেকের বেশি মেয়ে।
  • স্বাস্থ্যসেবাও একটি বড় অংশ। কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কাজ চলছে। গত পাঁচ বছরে একুশ লাখের বেশি মা নিরাপদ প্রসবসেবা পেয়েছেন।
  • এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগও চলমান। আগামী পাঁচ বছরে দশ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।
সব মিলিয়ে বোঝা যায়, ব্র্যাক শুধু একটি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান নয়। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন কাঠামো, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আপনি যদি ব্র্যাকের কোনো নির্দিষ্ট সেবা নিতে চান, তাহলে আগে নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করে জেনে নিন সেখানে কোন কোন সেবা চালু রয়েছে। কারণ সব শাখায় একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত নাও হতে পারে। এতে সময় বাঁচবে এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়াও সহজ হবে।

ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা: কীভাবে খুঁজবেন আপনার নিকটস্থ অফিস?

হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনে একটি ব্র্যাক অফিস বা ব্রাঞ্চের ঠিকানা দরকার, কিন্তু সঠিক লোকেশন খুঁজে পাওয়া পাচ্ছেন না—এমন অভিজ্ঞতা কম-বেশি আমাদের অনেকেরই হয়েছে। বিশেষ করে যখন কেউ ক্ষুদ্রঋণ, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা কোনো সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিতে চান, তখন সঠিক ব্র্যাকের স্থানীয় শাখা তালিকা ও লোকেশন জানা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। 
ব্র্যাক-এনজিও-শাখা-তালিকা
আজকের এই ব্লগে আমরা জানব কীভাবে খুব সহজে এবং কোনো ঝামেলা ছাড়াই আপনার সবচেয়ে কাছের ব্র্যাক শাখাটি খুঁজে পাবেন। কেন নির্দিষ্ট শাখা বা অফিসের তথ্য জানা প্রয়োজন?

আমাদের দেশে ব্র্যাকের বিস্তার এতটাই বিশাল যে প্রায় প্রতিটি জেলা, উপজেলা এমনকি অনেক ইউনিয়ন পর্যায়েও তাদের কার্যক্রম রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, ইন্টারনেটে অনেক সময় পুরোনো বা অসম্পূর্ণ তথ্য ঘুরে বেড়ায়। ফলে মানুষ ভুল ঠিকানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হন। তাই আমার কাছে মনে হয় কোনো ঝামেলা এড়াতে সঠিক ও আপডেট উপায়ে তথ্য যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

ব্র্যাক বাংলাদেশের ৬৪ জেলাতেই কাজ করে। প্রতিটি জেলায় একাধিক আঞ্চলিক অফিস ও উপশাখা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ক্ষুদ্রঋণ, কৃষি ও শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে তারা ইউনিয়ন পর্যায়েও উপস্থিত। তাই আপনার এলাকায় ব্র্যাকের শাখা না থাকার সম্ভাবনা কম।
  • নিকটস্থ শাখা খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ হলো ব্র্যাকের হটলাইনে ফোন করা। নম্বরটি হলো ১৬২২১। এই নম্বরে কল করে আপনার এলাকার নাম বললেই তারা নিকটস্থ শাখার ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর জানিয়ে দেয়। এটি সরাসরি ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য বলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে।
  • দ্বিতীয় উপায় হলো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। www.brac.net ঠিকানায় গিয়ে "Contact" বা "Where We Work" অংশে জেলাভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায়। মাঝেমধ্যে ওয়েবসাইট আপডেট হয় বলে সেখানকার তথ্যই সবচেয়ে হালনাগাদ থাকে।
  • যাঁরা সরাসরি অফিসে যেতে চান না, তাঁরা প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। ব্র্যাক সেন্টার অবস্থিত ৭৫ মহাখালী, ঢাকা-১২১২। এখান থেকেই সারাদেশের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইমেইলেও যোগাযোগ করা যায়, ঠিকানা ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে।
একটা বিষয় মাথায় রাখা ভালো। ব্র্যাকের ঋণ কার্যক্রম আর ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা আলাদা জিনিস। অনেকে দুটো গুলিয়ে ফেলেন। ব্র্যাক এনজিও মূলত ক্ষুদ্রঋণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে, আর ব্র্যাক ব্যাংক একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংক। শাখা খোঁজার সময় কোনটি দরকার তা স্পষ্ট করে নেওয়া উচিত।

সবশেষে বলি, কোনো তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটে দেওয়া পুরনো ঠিকানার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে হটলাইন বা ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ। এতে সময় বাঁচবে এবং ভুল শাখায় গিয়ে হয়রানি এড়ানো যাবে।

ব্র্যাক এনজিও হেড অফিস নাম্বার জানুন

ব্র্যাক এনজিও হেড অফিস নাম্বার খুঁজতে গিয়ে অনেকেই ভুল নম্বরে ফোন দেন। কারণ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা অনেক তথ্য আসলে ব্র্যাক ব্যাংকের নম্বর, ব্র্যাক এনজিওর নয়। দুটো প্রতিষ্ঠান আলাদা হলেও নাম প্রায় একই বলে গুলিয়ে ফেলা স্বাভাবিক। অনেকেই ব্র্যাক এনজিও শাখা সমূহ খোঁজার পাশাপাশি হেড অফিসের যোগাযোগের তথ্যও জানতে চান। 

বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট শাখার তথ্য না পেলে, অভিযোগ জানাতে চাইলে বা বিশেষ কোনো সেবা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হলে সরাসরি হেড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
  • ব্র্যাকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা হলো ব্র্যাক সেন্টার, ৭৫ মহাখালী, ঢাকা-১২১২। যোগাযোগের জন্য টেলিফোন নম্বর ৮৮ ০২ ২২২২ ৮১২৬৫। ইমেইল করতে চাইলে লিখতে পারেন info@brac.net ঠিকানায়।
  • মানবসম্পদ বিভাগের জন্য আলাদা হেল্পলাইনও আছে। নম্বরটি হলো ০১৭৫৫৬৯২০২৩-৪। এটি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সচল থাকে। চাকরি সংক্রান্ত কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে এই নম্বরই কাজে লাগবে, প্রধান অফিসের নম্বরে নয়।
  • অনেকে ১৬২২১ নম্বরটিকে ব্র্যাক এনজিওর হটলাইন মনে করেন। বাস্তবে এটি ব্র্যাক ব্যাংকের চব্বিশ ঘণ্টার কল সেন্টার নম্বর। ব্যাংকিং সেবা, কার্ড বা অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্যায় এই নম্বর কাজ দেয়। কিন্তু ঋণ, শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করাই ভালো।
শাখাভিত্তিক তথ্যের জন্য ব্র্যাক এনজিও তালিকা ঘেঁটে দেখা যেতে পারে, কারণ প্রতিটি জেলা অফিসের নিজস্ব যোগাযোগ নম্বর থাকে। প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি ফোন না করে স্থানীয় শাখায় যোগাযোগ করলে সমস্যার সমাধান দ্রুত হয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। হেড অফিসে যোগাযোগ করার আগে আপনার প্রশ্নটি যদি নির্দিষ্ট কোনো জেলা বা শাখা সম্পর্কিত হয়, তাহলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন। 

এতে দ্রুত সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর যদি শাখার যোগাযোগের তথ্য না পান, তখন হেড অফিসে যোগাযোগ করলে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক শাখা বা কর্মকর্তার তথ্য জানিয়ে দিতে পারবেন। আমার অভিজ্ঞতায় বলবো, ফোন করার সময় আপনার প্রয়োজনীয় বিষয়টি সংক্ষেপে লিখে রাখলে কথা বলা সহজ হবে। পাশাপাশি অফিস চলাকালীন সময়ে যোগাযোগ করলে দ্রুত সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।

ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা গাজীপুর

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের জেলা। এখানে কারখানার শ্রমিক থেকে শুরু করে কৃষিজীবী মানুষ, সবার জন্যই ব্র্যাকের কার্যক্রম চালু আছে। তাই ব্র্যাক অফিসের শাখা তালিকা গাজীপুর নিয়ে খোঁজাখুঁজি করা মানুষের সংখ্যা কম নয়। তবে একটা সত্যি কথা খোলাখুলি বলি। গাজীপুর সদর, টঙ্গী, কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জ, কাপাসিয়া ও শ্রীপুর, এই ছয় উপজেলায় ব্র্যাকের একাধিক অফিস থাকলেও নির্দিষ্ট ঠিকানা সময়ে সময়ে বদলায়। এছাড়া গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ব্র্যাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে।

শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে জনসংখ্যাও বাড়ছে দ্রুত, ফলে নতুন শাখা খোলার হারও বেশি। তাই কোনো একক তালিকা বছরের পর বছর সঠিক থাকে না। এই সমস্যা এড়াতে সবচেয়ে ভরসাযোগ্য পথ হলো সরাসরি ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা। এখান থেকে গাজীপুরের যেকোনো উপজেলার শাখার হালনাগাদ ঠিকানা জানা যায়।

স্থানীয়ভাবেও একটা কৌশল কাজে দেয়। টঙ্গী বা গাজীপুর সদরে যাঁরা আগে থেকে ব্র্যাকের ঋণগ্রহীতা বা কর্মী চেনেন, তাঁদের মাধ্যমে সবচেয়ে দ্রুত সঠিক অফিসের হদিস পাওয়া যায়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা কার্যালয়েও এনজিও তালিকা রাখা থাকে, সেখান থেকেও তথ্য পেতে পারেন।
সম্ভাব্য শাখা/এলাকা ঠিকানা
শ্রীপুর শাখা শ্রীপুর, গাজীপুর
টঙ্গী শাখা টঙ্গী, গাজীপুর
বোর্ড বাজার শাখা বোর্ড বাজার, গাজীপুর
কালিয়াকৈর শাখা কালিয়াকৈর, গাজীপুর
কালীগঞ্জ শাখা কালীগঞ্জ, গাজীপুর
কাপাসিয়া শাখা কাপাসিয়া, গাজীপুর
জয়দেবপুর শাখা গাজীপুর সদর (জয়দেবপুর), গাজীপুর

ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা কুমিল্লা

কুমিল্লা দেশের অন্যতম জনবহুল জেলা। সতেরোটি উপজেলা মিলিয়ে এখানে জনসংখ্যা অনেক বেশি, তাই ব্র্যাকের কার্যক্রমও বিস্তৃত। এই কারণেই ব্র্যাক এলাকার শাখা তালিকা কুমিল্লা নিয়ে খোঁজ করা মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। কুমিল্লা সদর, লাকসাম, চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং, দাউদকান্দি সহ প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই ব্র্যাকের অফিস রয়েছে। 

ঋণ কার্যক্রম, শিক্ষা কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসেবা, তিনটিই এই এলাকায় সমান তালে চলে। তবে প্রতিটি শাখার নির্দিষ্ট ঠিকানা এখানে হুবহু তুলে ধরা ঠিক হবে না, কারণ এই তথ্য প্রায়ই বদলাতে থাকে। কেন বদলায়, তা একটু ব্যাখ্যা করি। ব্র্যাক প্রয়োজন অনুযায়ী শাখা একীভূত করে বা নতুন শাখা খোলে। ভাড়া ভবনে অফিস চলায় ঠিকানা বদলানোও স্বাভাবিক। 

তাই দুই বছর আগের একটা তালিকা এখন সঠিক নাও থাকতে পারে। ভুল ঠিকানায় গিয়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে হালনাগাদ তথ্য যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা। এই আর্টিকেলের "ব্র্যাক এনজিও হেড অফিস নাম্বার" অংশে দেওয়া অফিসিয়াল যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন। 

এখান থেকে কুমিল্লার নির্দিষ্ট উপজেলার শাখা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। স্থানীয়ভাবেও একটা সহজ পথ আছে। উপজেলা পরিষদ বা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সাধারণত এলাকার এনজিও তালিকা রাখা থাকে। এছাড়া প্রতিবেশী বা পরিচিত কেউ যদি ব্র্যাকের গ্রাহক হন, তাঁর মাধ্যমেও দ্রুত সঠিক অফিসের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।

চট্টগ্রামে ব্র্যাক এনজিওর শাখা ও কার্যক্রম

ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা চট্টগ্রাম সম্পর্কে অনেকেই জানতে চেয়েছেন। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ব্র্যাকের অসংখ্য শাখা, এরিয়া অফিস এবং লার্নিং সেন্টার অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে মূল আঞ্চলিক কার্যালয়টি কাজীর দেউড়ির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত । তাছাড়া কোতোয়ালি, হাটহাজারী সহ জেলার প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ব্র্যাকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মাইক্রোফাইন্যান্স বা ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বিস্তৃত রয়েছে।

প্রধান কার্যালয় ও যোগাযোগ করার ঠিকানা নিচে দেয়া হল-
  1. ঠিকানাঃ ১৮ এস. এস. খালেদ রোড, কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম-৪০০০।
  2. যোগাযোগ নম্বরঃ +৮৮০১৭৩০৩৫১১২৩
  3. জেলা সমন্বয়ক অফিসঃ চট্টগ্রাম জেলা এনজিও পোর্টাল ও নির্ধারিত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, জেলা সমন্বয়ক কার্যালয়টি এখানকার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
👉চট্টগ্রামের প্রধান শাখাসমূহ দেখুন-
  • কোতোয়ালি এরিয়া অফিসঃ কোতোয়ালি থানা এলাকার আওতাধীন সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এখানে মাইক্রোফাইন্যান্স ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক শাখা পরিচালিত হয়।
  • হাটহাজারী শাখাঃ হাটহাজারী উপজেলা সদরে ব্র্যাকের সুনির্দিষ্ট শাখা এবং তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।
  • উপজেলা ও ইউনিয়নভিত্তিক নেটওয়ার্কঃ শুধু শহর নয়, চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ব্র্যাকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রগতি বা দাবি কর্মসূচিভিত্তিক কার্যক্রমের শক্তিশালী বিস্তার রয়েছে।

ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা ঢাকা: সহজে খুঁজে নিন নিকটস্থ অফিস

ঢাকা শহরে ব্র্যাকের উপস্থিতি সবচেয়ে ঘন। কারণ এখানেই সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। তাই স্বাভাবিকভাবেই ব্র্যাক এলাকার শাখা তালিকা ঢাকা নিয়ে খোঁজ করা মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, ডেমরা, সাভার, কেরানীগঞ্জ, এই এলাকাগুলোতে ব্র্যাকের কার্যক্রম বিশেষভাবে সক্রিয়।
ব্র্যাক-এনজিও-শাখা-তালিকা-ঢাকা
কারণ এসব এলাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা বেশি, আর ঋণ, শিক্ষা কিংবা স্বাস্থ্যসেবার চাহিদাও তুলনামূলক বেশি। শহরের বাইরের উপজেলা যেমন ধামরাই, নবাবগঞ্জ, দোহারেও শাখা রয়েছে। তবে ঢাকার মতো বড় শহরে শাখার সংখ্যা এত বেশি যে প্রতিটির সঠিক ঠিকানা এক জায়গায় নিখুঁতভাবে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। ভবন বদল, নতুন শাখা খোলা কিংবা দুটো শাখা একীভূত হওয়া, এসব প্রায়ই ঘটে।

সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ হলো সরাসরি প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা। এদের মূল কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরটি অবস্থিত মহাখালীতে। ঠিকানা হলো BRAC Centre (হেড অফিস) – ৭৫ মহাখালী, ঢাকা-১২১২ ✅। যেহেতু হেড অফিস নিজেই ঢাকায়, তাই এখান থেকে যেকোনো এলাকার শাখার তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়। এলাকাভিত্তিক তথ্যের জন্য আরেকটা কাজেও করা যায়। 

এছাড়াও যাঁরা ইতিমধ্যে ব্র্যাকের গ্রাহক বা কর্মী চেনেন, তাঁদের কাছ থেকে হালনাগাদ ঠিকানা জেনে নিতে পারেন। এই মাধ্যমটা তুলনামূলক দ্রুত ও নির্ভুল। থানা বা ওয়ার্ড কার্যালয়েও কখনো কখনো স্থানীয় এনজিওর তালিকা পাওয়া যায়। আপনাদের সুবিধার জন্য নিচে টেবিল দেয়া হলো। তবে শাখার সুনির্দিষ্ট ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই অফিসে যাওয়ার আগে ব্র্যাকের অফিসিয়াল Branch Locator থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন।
শাখার নাম বিস্তারিত ঠিকানা
মিরপুর শাখা মিরপুর-১০, ঢাকা
গুলশান শাখা গুলশান-১, ঢাকা
উত্তরা শাখা সেক্টর-৪, উত্তরা, ঢাকা
কেরানীগঞ্জ শাখা কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
ধানমন্ডি শাখা ধানমন্ডি-২৭, ঢাকা
বাড্ডা শাখা মধ্য বাড্ডা, ঢাকা
শ্যামপুর শাখা শ্যামপুর, ঢাকা
যাত্রাবাড়ী শাখা যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
সাভার শাখা সাভার, ঢাকা
মোহাম্মদপুর শাখা রিং রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
বসুন্ধরা শাখা সাফওয়ান রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা
বনানী শাখা বোরাক মেহনুর, কমল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, বনানী, ঢাকা
আশুলিয়া শাখা আব্বাস শপিং কমপ্লেক্স, জামগড়া, আশুলিয়া, ঢাকা
আতি বাজার শাখা হাজী নুরুদ্দিন প্লাজা, আতি বাজার, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
আশকোনা শাখা আশকোনা কমিউনিটি সেন্টার, দক্ষিণখান, ঢাকা

অন্যান্য জেলার ব্র্যাক শাখা কীভাবে খুঁজবেন

ব্র্যাক এনজিও শাখা সমূহ নিয়ে খোঁজাখুঁজি করেন এমন মানুষের একটা বড় অংশ থাকেন ঢাকার বাইরের জেলায়। প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা আলাদা ব্লগ পড়ার দরকার নেই। বরং কয়েকটা সহজ পদ্ধতি জানা থাকলে যেকোনো জেলার শাখা নিজেই বের করতে পারবেন সহজেই।
  • প্রথম ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো হেড অফিসে সরাসরি ফোন করা। ঠিকানা ব্র্যাক সেন্টার, ৭৫ মহাখালী, ঢাকা-১২১২। ফোন নম্বর ৮৮ ০২ ২২২২ ৮১২৬৫। এখানে ফোন করে নিজের জেলা ও উপজেলার নাম বললেই তারা নিকটস্থ শাখার ঠিকানা জানিয়ে দেয়। এই তথ্য সরাসরি ব্র্যাক থেকে আসে বলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
  • দ্বিতীয় উপায় হলো স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য নেওয়া। প্রতিটি জেলা বা উপজেলা পরিষদের ওয়েবসাইটে সাধারণত এনজিও তালিকা প্রকাশিত থাকে। সরকারি সাইট হওয়ায় এই তথ্য মোটামুটি নির্ভরযোগ্য। তবে এখানেও মাঝেমধ্যে হালনাগাদ না হওয়ার সমস্যা থাকে।
  • তৃতীয় পদ্ধতি হলো স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে জানা। গ্রাম বা মহল্লায় যাঁরা আগে থেকে ব্র্যাকের ঋণগ্রহীতা বা কর্মী, তাঁদের মাধ্যমে সবচেয়ে দ্রুত ও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। বাজার এলাকায় অনেক সময় শাখার সাইনবোর্ড চোখেও পড়ে।
কোনো জেলার শাখা খুঁজতে গিয়ে নিচের ভুলগুলো অনেকেই করে বসেন। তাই আমার পরামর্শ থাকবে-
  1. পুরোনো ঠিকানা দেখে যাবেন না।
  2. অফিস সময় না জেনে বের হবেন না।
  3. ফেসবুকের অযাচাইকৃত পোস্ট বিশ্বাস করবেন না।
  4. অফিসিয়াল তথ্য ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না।

ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা অনলাইনে দেখার উপায়

ঘরে বসেই ব্র্যাকের শাখা সমূহ অনলাইনে দেখার উপায় খুঁজছেন? সময় বাঁচাতে এটা সবারই স্বাভাবিক চাওয়া। তবে একটা বাস্তবতা আগেই বলে রাখি। ব্র্যাক ব্যাংকের মতো এনজিও শাখার জন্য কোনো আলাদা সার্চেবল ডাটাবেস বা ম্যাপ টুল এখনও নেই। কিন্তু কয়েকটা অনলাইন পথ ব্যবহার করে কাজ চালানো সম্ভব।
  • প্রথম উপায় হলো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট brac.net ঘুরে দেখা। এখানে "Where We Work" অংশে দেশ ও বিভাগভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায়। এরপর সেখানে আপনার বিভাগ, জেলা এবং প্রয়োজন হলে উপজেলা নির্বাচন করুন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকার উপলব্ধ ব্র্যাক শাখার তথ্য স্ক্রিনে দেখা যাবে। যদি একই এলাকায় একাধিক শাখা থাকে, তাহলে তালিকায় সেগুলোও আলাদাভাবে প্রদর্শিত হতে পারে। তাই নিজের অবস্থানের সবচেয়ে কাছের শাখাটি বেছে নেওয়া সহজ হয়।
  • দ্বিতীয় পথ হলো গুগল ম্যাপ ব্যবহার করা। "BRAC office" লিখে নিজের এলাকার নাম যোগ করে সার্চ করলে আশপাশের অফিসগুলো ম্যাপে দেখা যায়। ব্যবহারকারীদের দেওয়া রিভিউ ও ছবি থেকে অফিসের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণাও পাবেন। এই পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর।
  • তৃতীয় উপায় ব্র্যাকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ। এখানে মাঝেমধ্যে নতুন শাখা খোলার ঘোষণা বা যোগাযোগের তথ্য পোস্ট করা হয়। মেসেজ পাঠিয়ে সরাসরি প্রশ্নও করা যায়।
  • তবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফলাফল পেতে হলে আমি বলব অনলাইন খোঁজার পাশাপাশি হেড অফিসের নম্বরে একবার ফোন করে যাচাই করে নেওয়াই ভালো। কারণ অনলাইনে থাকা তথ্য মাঝেমধ্যে পুরনো থেকে যায়, আর ভুল ঠিকানায় গিয়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে একটা ফোন কল অনেক কম ঝামেলার।
যেমন, "গত বছর গ্রামের বাড়িতে এক আত্মীয়ের জরুরি প্রয়োজনে যখন ব্র্যাকের একটি শাখা খুঁজতে হয়েছিল, তখন সঠিক তথ্য জানা না থাকায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি যেকোনো শাখায় যাওয়ার আগে অফিসিয়াল তথ্য একবার যাচাই করে নিন এতে আপনার যাতায়াতের খরচ এবং অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা দুটোই কমে যাবে।

ব্র্যাকের কর্মকর্তা বা শাখার সাথে যোগাযোগের সহজ উপায়

শুধু ঠিকানা জানলেই কাজ শেষ হয় না। ব্র্যাকের কর্মকর্তা বা শাখার সাথে যোগাযোগের সহজ উপায় জানা থাকলে আসল সমস্যাটা দ্রুত সমাধান হয়। অনেকেই শাখায় গিয়ে সঠিক মানুষ খুঁজে না পেয়ে বারবার চক্কর কাটেন। ঠিকানা বা ফোন নম্বর জানা এক জিনিস, আর সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানো আরেক জিনিস। 

ব্র্যাকের কর্মকর্তা বা শাখার সাথে যোগাযোগের সহজ উপায় বলতে আসলে বোঝায় কোন সমস্যায় কার কাছে যেতে হবে, সেটা বোঝা। যোগাযোগের নম্বরগুলো আমাদের আগের লেখায় দেওয়া আছে, এখানে বরং আপনাদের বলি কীভাবে সেগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগাবেন। ব্র্যাকে যোগাযোগের একটা ধাপে ধাপে কাঠামো আছে, যা অনেকেই জানেন না। 
  • প্রথম ধাপ হলো নিজের এলাকার শাখা অফিস। ছোটখাটো সমস্যা, যেমন কিস্তির তারিখ বা ফরম সংক্রান্ত প্রশ্ন, এখানেই মিটিয়ে নেয়া যায়। 
  • শাখা থেকে সমাধান না পেলে দ্বিতীয় ধাপ হলো আঞ্চলিক অফিস, যেখানে একজন এলাকা ব্যবস্থাপক থাকেন। 
  • তৃতীয় ধাপে যাওয়া লাগে কেবল তখনই, যখন বিষয়টা নীতিগত বা জটিল, আর তখনই প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা প্রাসঙ্গিক হয়।
এখানে বিষয়ভেদে যোগাযোগের চ্যানেলও আলাদা আলাদা। 
  1. যেমন ঋণ বা সঞ্চয় সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্য শাখা অফিসই যথেষ্ট। 
  2. চাকরি বা ইন্টার্নশিপের প্রশ্নে সরাসরি মানবসম্পদ বিভাগে যাওয়া উচিত, সাধারণ হেল্পলাইনে নয়। 
  3. আর কোনো কর্মকর্তার আচরণ বা অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ থাকলে সেটা যায় ওমবাডসপারসন দপ্তরে, কারণ এই দপ্তর স্বাধীনভাবে বিষয়টা তদন্ত করে।
লিখিতভাবে যোগাযোগ করলে আপনার সমস্যার বিষয়টা এক লাইনে লিখুন, প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রের ছবি সংযুক্ত করুন এবং নিজের সদস্য নম্বর বা এলাকার নাম উল্লেখ করুন। এতে উত্তর পেতে সময় অনেক কমে যায়, কারণ কর্মকর্তাকে বাড়তি প্রশ্ন করতে হয় না।

আপনি যদি শাখায় শাখায় সরাসরি যেতে চান তাহলে আমার একটা ছোট পরামর্শ কাজে দিবে বলে আশা করছি। সকালের দিকে গেলে ভিড় কম থাকে এবং কর্মকর্তার সময়ও বেশি পাওয়া যায়। সেই সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকে গুছিয়ে রাখুন যাতে একবারেই কাজ শেষ হয়ে যায়।

ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা সে সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ১. ব্র্যাকের সব জেলায় কি শাখা রয়েছে?
উত্তরঃ বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলায় ব্র্যাকের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে সব উপজেলায় একই ধরনের সেবা বা শাখা নাও থাকতে পারে। তাই আগে থেকে তথ্য যাচাই করা ভালো।

প্রশ্ন ২. ব্র্যাকের সব শাখায় কি একই ধরনের সেবা পাওয়া যায়?
উত্তরঃ ব্র্যাকের সব শাখায় কি একই ধরনের সেবা পাওয়া যায় না। শাখাভেদে সেবার ধরন ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সেবার জন্য যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

প্রশ্ন ৩. নিকটস্থ শাখার সাথে যোগাযোগের আগে কী প্রস্তুত রাখা উচিত?
উত্তরঃ নিকটস্থ শাখার সাথে যোগাযোগের আগে নিজের এলাকার নাম, প্রয়োজনের বিষয় (ঋণ, শিক্ষা নাকি স্বাস্থ্যসেবা) এবং সম্ভব হলে পরিচয়পত্র বা ঠিকানার প্রমাণ কাছে রাখলে যোগাযোগ দ্রুত ও কার্যকর হয়।

প্রশ্ন ৪. কোনো কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে অভিযোগ থাকলে কী করব?
উত্তরঃ এই ধরনের বিষয় ব্র্যাকের ওমবাডসপারসন দপ্তরে জানানো উচিত। এই দপ্তর স্বাধীনভাবে অভিযোগ তদন্ত করে, ফলে সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

প্রশ্ন ৫. ব্র্যাক এনজিওর শাখায় গেলে কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে?
উত্তরঃ আপনি কোন সেবা নিতে যাচ্ছেন তার ওপর কাগজপত্র নির্ভর করে। সাধারণভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং প্রয়োজনীয় আবেদনসংক্রান্ত নথি সঙ্গে রাখলে সুবিধা হয়।

প্রশ্ন ৬. ব্র্যাকের শাখা অফিস সাধারণত কোন সময় খোলা থাকে?
উত্তরঃ বেশিরভাগ শাখা রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সরকারি অফিস সময়ের কাছাকাছি খোলা থাকে। শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। তবে নির্দিষ্ট শাখার সময়সূচি একটু ভিন্ন হতে পারে, তাই যাওয়ার আগে ফোনে একবার নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

প্রশ্ন ৭. ব্র্যাক থেকে ঋণ নিতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
উত্তরঃ ব্র্যাক থেকে ঋণ নিতে সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, ছবি এবং প্রয়োজনে গ্যারান্টারের তথ্য লাগে। নির্দিষ্ট ঋণের ধরন অনুযায়ী কাগজপত্রের তালিকা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তাই শাখায় গিয়ে আগে সম্পূর্ণ তালিকা জেনে নেওয়া ভালো।

ব্র্যাক এনজিও শাখা তালিকা সে সম্পর্কে আমার নিজস্ব অভিমত

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ থেকে মনে হয়, প্রতিটি মানুষেরই যেকোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সেবা কেন্দ্রের ঠিকানা ও যোগাযোগ মাধ্যমটি অনলাইনে বা বিশ্বস্ত সূত্রে যাচাই করে নেওয়া উচিত। এতে অযথা হয়রানি ও সময় অপচয় থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া যায়। ব্র্যাকের মতো বিশাল একটি প্রতিষ্ঠানের সেবা দেশের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকায় সঠিক ব্র্যাক অফিসের শাখা তালিকা জানা থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য যেকোনো সহযোগিতা পাওয়া অনেক সহজ ও স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাল্টিম্যাক্স আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।

comment url