IELTS ছাড়া স্কলারশিপ পেতে এই ৫টি সহজ টিপস মিস করবেন না!

আপনি কি স্কলারশিপ পেতে চান কিন্তু জানেন না স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়? এই আর্টিকেলে আমরা দেখাচ্ছি সহজ এবং প্রমাণিত ধাপগুলো, যার মাধ্যমে আপনি সফলভাবে আবেদন করতে পারবেন। প্রতিটি স্টেপ বিস্তারিতভাবে এবং বাস্তব উদাহরণের সঙ্গে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে আপনার স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
স্কলারশিপ-কিভাবে-পাওয়া-যায়
বিনা ঝামেলায় স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধাপ এই আর্টিকেলে আছে। প্রতিটি আবেদন টিপস, দস্তাবেজ প্রস্তুতি এবং সফলতার কৌশল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পড়ে দেখুন এবং আপনার শিক্ষার জন্য সুযোগ কাজে লাগান।

পোস্ট সূচীপত্রঃ স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায় 

বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ ধরন-

স্কলারশিপের সুযোগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে বুঝতে হবে কী ধরনের স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায় এবং সেগুলোর জন্য কীভাবে আবেদন করতে হয়। বিভিন্ন স্কলারশিপের যোগ্যতা ও সুবিধা আলাদা হয়। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে আপনি নিশ্চয়ই আপনার যোগ্যতার উপযোগী স্কলারশিপ পেতে পারবেন।
১. মেধা ভিত্তিক স্কলারশিপ:
  • যারা একাডেমিকভাবে দুর্দান্ত, তাদের জন্য মেধা ভিত্তিক স্কলারশিপ একটি বড় সুযোগ। এই ধরনের স্কলারশিপ পেতে সাধারণত ভালো গ্রেড বা সিজিপিএ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়ে উচ্চ ফলাফল অর্জন করা হলে, এই ধরনের স্কলারশিপ পাওয়া সহজ হয়।
২. প্রয়োজন ভিত্তিক স্কলারশিপ:
  • যারা আর্থিকভাবে সীমিত, তাদের জন্য প্রয়োজন ভিত্তিক স্কলারশিপ রয়েছে। এই স্কলারশিপ শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, থাকার খরচ এবং অন্যান্য খরচ সামলাতে সাহায্য করে, যাতে তারা আর্থিক সমস্যার কারণে পড়াশোনা বন্ধ করতে না হয়।
৩. অ্যাথলেটিক স্কলারশিপ:
  • যদি আপনি ক্রীড়া ক্ষেত্রে দক্ষ হন, তবে অ্যাথলেটিক স্কলারশিপ একটি সুবর্ণ সুযোগ। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া দলের অংশ হওয়ার সুযোগও পাবেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের স্কলারশিপ প্রচলিত এবং খেলাধুলার মাধ্যমে পড়াশোনার জন্য অনুপ্রাণিত করে।
৪. ইনক্লুসিভ স্কলারশিপ:
  • আপনি যদি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হন, তবে ইনক্লুসিভ স্কলারশিপের সুযোগ নিতে পারেন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাঙ্গণে সমানাধিকার নিশ্চিত করতে সংখ্যালঘু বা পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপ দেয়। এতে নারী, জাতিগত বা নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু এবং অন্যান্য বিশেষ সম্প্রদায়ের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত।
যখন আপনি আপনার যোগ্যতার উপযোগী স্কলারশিপের তালিকা ঠিক করে ফেলবেন, তখন পরবর্তী ধাপ হলো সঠিকভাবে আবেদন করা। আবেদন প্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল মনে হলেও এটি বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়: সহজ ও কার্যকরী গাইড

আপনি কি ভেবেছেন, কেউ কীভাবে পড়াশোনার জন্য বিনামূল্যে টাকা পায়? হ্যাঁ, ঠিক তাই—স্কলারশিপ! কিন্তু এই রহস্যটা একদম জটিল নয়। আসলে, “স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়?” জানতে হলে শুধু একটু খোঁজ, সঠিক তথ্য এবং পরিকল্পনা লাগবে। ভাবুন, আপনার পড়াশোনার স্বপ্নে কী ধরনের সাহায্য দরকার—তাহলেই শুরু। অনেকেই ভাবেন, স্কলারশিপ পাওয়া শুধু সেরা ছাত্রদের জন্য, কিন্তু বাস্তবে এর সুযোগ অনেক বিস্তৃত। কিছু স্কলারশিপ শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর, কিছু আর্থিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।

প্রথমেই বুঝে নিন, স্কলারশিপের ধরণগুলো কী কী। সাধারণত, এটি হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক, সরকারী, আন্তর্জাতিক বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের। অনেক স্কলারশিপ রয়েছে যারা শুধুমাত্র শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে, আবার কিছু স্কলারশিপ নির্ভর করে আর্থিক প্রয়োজনীয়তার ওপর।
স্কলারশিপ-কিভাবে-পাওয়া-যায়
  • স্কলারশিপ পাওয়ার প্রথম ধাপ হলো আপনার যোগ্যতা যাচাই করা। শিক্ষাগত রেকর্ড, কোর্সের ধরন, গ্রেড বা GPA—সবকিছু গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যেমন TOEFL বা IELTS স্কোর থাকলে আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের জন্য এটি বড় প্লাস। এছাড়া, আপনার অতিরিক্ত কার্যক্রম, কমিউনিটি সেবা বা প্রতিভার কিছু প্রমাণ থাকলে আপনার আবেদন আরও শক্তিশালী হয়।
  • এরপর আসে সঠিক স্কলারশিপ খোঁজা। এখন অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আছে যা বিশেষভাবে ছাত্রদের জন্য স্কলারশিপের তথ্য সরবরাহ করে। এখানে কিওয়ার্ড হিসেবে আপনি ব্যবহার করতে পারেন “ফুল ফ্রি স্কলারশিপ বাংলাদেশে”, “ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ ২০২৬”, বা “ছাত্রদের জন্য বৃত্তি”। এগুলো প্রাকৃতিকভাবে আর্টিকেলের মধ্যে ব্যবহার করলে গুগল র‍্যাংকিংয়ে সাহায্য করে। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, সামাজিক মাধ্যম গ্রুপ এবং ফোরামগুলোও ভালো উৎস।
  • স্কলারশিপের জন্য আবেদন করার সময় প্রতিটি নির্দেশাবলী মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। আবেদন ফর্ম পূরণ করুন, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখুন এবং প্রায়ই একটি আকর্ষণীয় কভার লেটার বা প্যারাগ্রাফ লিখুন যেখানে আপনার লক্ষ্য, আগ্রহ ও যোগ্যতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। মনে রাখবেন, আপনার আবেদন যত প্রাসঙ্গিক এবং সুশৃঙ্খল হবে, সম্ভাবনা তত বেশি।
শেষে, সময়মতো আবেদন করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক শিক্ষাবিদ বা প্রতিষ্ঠানের স্কলারশিপের শেষ তারিখ থাকে নির্দিষ্ট। তাই আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়ে আবেদন করুন। এছাড়াও, একাধিক স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে দ্বিধা করবেন না—প্রতিটি সুযোগ আপনার সম্ভাবনা বাড়ায়। নিয়মিত ফলোআপ করুন এবং ফলাফল জানার জন্য ধৈর্য ধরুন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, স্কলারশিপ পাওয়ার মূল কৌশল হলো: নিজের যোগ্যতা বোঝা, সঠিক স্কলারশিপ খোঁজা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং তথ্য প্রস্তুত রাখা, এবং সময়মতো সঠিকভাবে আবেদন করা। যদি এই ধাপগুলো ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়, আপনি নিশ্চিতভাবে আপনার কাঙ্ক্ষিত স্কলারশিপটি পেতে সক্ষম হবেন।

এসএসসি পর স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়-

আপনি কি কখনও ভেবেছেন, পড়াশোনার স্বপ্ন আর অর্থের সীমাবদ্ধতার মধ্যে কিভাবে সেতুবন্ধন তৈরি করা যায়? হ্যাঁ, ঠিক এই জায়গায় আসে স্কলারশিপ। এসএসসি শেষ করে কলেজ বা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার সময় অনেকেই প্রথমবারের মতো এর সঙ্গে পরিচিত হয়। কিন্তু খেয়াল রাখুন, স্কলারশিপ শুধুই “কিছু নির্বাচিত শিক্ষার্থীর জন্য” নয়—সঠিক তথ্য, প্রস্তুতি এবং একটু কৌশল থাকলেই সবাই সুযোগ পেতে পারে।
  • প্রথমেই নিজের যোগ্যতা মূল্যায়ন করুন। আপনার GPA, পরীক্ষার ফলাফল, কোনো শিক্ষাগত পুরস্কার বা অতিরিক্ত কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা—সবকিছু গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রশ্ন হলো, আপনার কোন ক্ষেত্রটিতে বিশেষ শক্তি আছে? যদি থাকে, সেটাকে তুলে ধরুন। অনেক স্কলারশিপ এখন শুধু ফলাফলের ওপর নয়, ছাত্রের লক্ষ্য ও আগ্রহের ওপরও মনোযোগ দেয়।
  • এরপর খুঁজুন সঠিক স্কলারশিপ। অনলাইনে অনেক প্ল্যাটফর্ম আছে যা “এসএসসি পর স্কলারশিপ বাংলাদেশে”, “কলেজে ভর্তি বৃত্তি” বা “ছাত্রদের জন্য ফ্রি স্কলারশিপ” এর মতো তথ্য দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, সামাজিক মিডিয়া গ্রুপ, এবং ফোরামগুলোও খুঁজে পাওয়ার জন্য ভালো উৎস। নিজের জন্য কোন স্কলারশিপ উপযুক্ত, তা খুঁজে বের করা প্রথম বড় ধাপ।
  • আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার সময় সবকিছু সাজানো এবং প্রস্তুত রাখা জরুরি। শিক্ষাগত সনদ, জন্ম সনদ, অভিভাবকের অনুমোদন পত্র এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক তথ্য আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন। কিছু স্কলারশিপে ছোট প্রবন্ধ বা কভার লেটার চাইতে পারে, যেখানে নিজের আগ্রহ, লক্ষ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। মনে রাখবেন, সুসংগঠিত ও বিস্তারিত আবেদন জেতার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়মতো আবেদন করা। অনেক স্কলারশিপের নির্দিষ্ট শেষ তারিখ থাকে, তাই আগে থেকে প্রস্তুতি নিন। একাধিক স্কলারশিপের জন্য চেষ্টা করুন—প্রতিটি চেষ্টা আপনার সম্ভাবনা বাড়ায়। নিয়মিত ফলোআপ করুন এবং ধৈর্য ধরে ফলাফলের অপেক্ষা করুন। এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে আপনি সহজেই আপনার কলেজ জীবন শুরু করতে পারবেন আর্থিক চাপ ছাড়াই।

উচ্চমাধ্যমিক শেষে স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়-

আপনি যদি উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর বিদেশে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করতে চান এবং স্কলারশিপ পেতে চান, তাহলে আগে থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করা খুব জরুরি। উচ্চমাধ্যমিকের সময় নিজের দক্ষতা বাড়ালে পরবর্তী ধাপ অনেক সহজ হয়ে যায়। চলুন দেখি, কোন কোন ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত:
  • ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি: ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি দেওয়ার আগে SAT বা সমতুল্য পরীক্ষা চায়। তাই কলেজ জীবন থেকেই এই পরীক্ষার দিকে নজর দেওয়া শুরু করুন।
  • সামাজিক ও অতিরিক্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ: শুধু ক্লাসে ভালো করা যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ বা সমাজসেবামূলক প্রজেক্টে যুক্ত হলে আপনার আবেদন আরও শক্তিশালী হয়। এই ধরনের কাজের সার্টিফিকেট বা প্রমাণপত্র আপনার আবেদনকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
  • রেকমেন্ডেশন লেটার: স্কলারশিপের আবেদনপত্রে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজনকে লেটার লিখতে দিন যিনি আপনাকে ভালভাবে চেনে—হতে পারে আপনার স্কুলের শিক্ষক বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি। লেটারে আপনার শেখার আগ্রহ, সামাজিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী উল্লেখ থাকা উচিত।
  • ভাষার দক্ষতা প্রমাণ: IELTS বা TOEFL স্কোর দেখায় আপনি ইংরেজিতে কতটা পারদর্শী। তাই এই পরীক্ষাগুলোর জন্য যথেষ্ট সময় দিন এবং সম্ভব হলে ভালো স্কোর আনার চেষ্টা করুন।
  • আবেদনপত্রে নিজের আগ্রহ প্রকাশ: কেবল তথ্য দেওয়াই যথেষ্ট নয়। লিখুন কেন বিদেশে পড়তে চান, কোন বিষয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা করতে চান এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের কাজ করতে চান। ছোট, স্পষ্ট ও সৃজনশীল বাক্যগুলো আপনার আবেদনকে আরও প্রভাবশালী করে।
মনে রাখবেন, উচ্চমাধ্যমিকেই যদি নিজেকে ডেভেলপ করতে শুরু করেন, স্কলারশিপ পাওয়া আপনার জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং সঠিক প্রস্তুতি থাকলেই বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন বাস্তব হতে পারে।

স্নাতক শেষ করার পর স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়

যদি আপনি স্নাতক শেষ করার পর বিদেশে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করতে চান এবং স্কলারশিপ পেতে চান, তাহলে এই বিষয়ে আগে থেকেই নজর রাখা জরুরি। কলেজ জীবনের সময় ছোট ছোট প্রস্তুতি ভবিষ্যতের বড় সুযোগ খুলে দিতে পারে। ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখলেই অনেক আইডিয়া পাওয়া যায়, আর এখানে আমি সব ধাপ সহজভাবে বর্ণনা করছি।
১. গবেষণা ও প্রকাশনার দিকে মনোযোগ দিন:
  • যে বিষয় নিয়ে আপনি পড়েছেন, তার উপর ছোট গবেষণা বা নিবন্ধ লিখুন। চেষ্টা করুন তা আন্তর্জাতিক জার্নাল বা পত্রিকায় প্রকাশ করার। এতে আপনার স্কলারশিপ বা ভর্তি আবেদন অনেক শক্তিশালী হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা সিনিয়রদের সাহায্য নিতে পারেন—they গাইড করে এগুলো করতে পারবেন।
২. কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে কাজে লাগান:
  • যে বিষয় নিয়ে বিদেশে পড়তে চান, যদি সেই ক্ষেত্রের কোনো ইন্টার্নশিপ বা চাকরির অভিজ্ঞতা থাকে, তা অবশ্যই উল্লেখ করুন। উদাহরণস্বরূপ, যদি মিডিয়া স্টাডিজে স্নাতকোত্তর করতে চান, স্নাতক পর্যায়ে মিডিয়া ফিল্ডে কাজ বা ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা থাকলে সেটা আপনার আবেদনকে আরও শক্তিশালী করে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন:
  • বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ বা ফেলোশিপের অর্থ বরাদ্দ থাকে। আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক বা বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে ইমেইল বা যোগাযোগ করুন এবং ফান্ডের জন্য আবেদন জানান।
৪. আবেদনপত্রে স্পষ্ট লিখুন:
  • ইমেইল বা আবেদনপত্রে অবশ্যই উল্লেখ করুন—আপনি কোন বিষয়ে পড়তে চান, কেন পড়তে চান, এবং কোন অধ্যাপকের অধীনে গবেষণা করতে আগ্রহী। স্পষ্ট তথ্য দিলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
৫. অর্থপ্রদানের ধরন জানুন:
  • স্কলারশিপের অর্থ কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের মাধ্যমে আসে, আবার কখনো সরাসরি চেকের মাধ্যমে। স্কলারশিপ পেলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন কোন পদ্ধতিতে অর্থ গ্রহণ করতে চান।
৬. রেকমেন্ডেশন লেটার সংগ্রহ করুন:
  • আপনার স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষক বা যে অধ্যাপকের অধীনে গবেষণা করেছেন, তার কাছ থেকে রেকমেন্ডেশন লেটার আনুন। লেটারে আপনার মেধা, গবেষণার আগ্রহ এবং প্রজ্ঞা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত।
৭. ভাষা ও পরীক্ষা স্কোর:
  • IELTS, TOEFL, GRE, GMAT—এই স্কোরগুলো স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি আবেদন ও স্কলারশিপের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিজনেস স্টাডিজ বা আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামের জন্য GRE ও GMAT-এর প্রস্তুতি স্নাতক পর্যায় থেকেই শুরু করুন।

🎓 ২০২৫‑২৬: সরকারি কি কি স্কলারশিপগুলো আসছে? 

স্কলারশিপ—শোনা মাত্রই অনেক শিক্ষার্থীর চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে! বিশেষ করে যখন সেটা সরকারি স্কলারশিপ হয়, তখন মনে হয় যেন স্বপ্নটাই সত্যি হতে যাচ্ছে। আসলে, এই ধরনের স্কলারশিপ শুধু টাকা‑ভাতা নয়, আপনাকে পরিচিত করে এক নতুন শিক্ষাজীবনের দরজায় ঢোকার পথে।

২০২৫‑২৬ সালের সরকারি স্কলারশিপ সম্পর্কে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বেশ চমৎকার। বাংলাদেশ সরকার প্রতিবারের মতো এই বছরও SSC পরীক্ষার ভিত্তিতে ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য আর্থিক সহায়তার স্কলারশিপের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতি বছর সরকারি স্কলারশিপে প্রায় ১০,৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়, যার মধ্যে মেধা ভিত্তিক এবং সাধারণ সাহায্য উভয় রয়েছে।

স্কলারশিপে নির্বাচিত হলে সাধারণত মাসিক একটা ভাতা দেওয়া হয়, আর বছর শেষে একটা এক‑বারের অনুদানও থাকে। উদাহরণস্বরূপ, মেধা ভিত্তিক স্কলারশিপ পেলে মাসে Tk 825 এবং বছরে একবার Tk 1,800 পর্যন্ত পাওয়া যায়, আর সাধারণ স্কলারশিপে আবার Tk 375/মাস এবং বছরে Tk 750 পাওয়া যায়—এইভাবে সরকারি সাহায্য মাধ্যমিক পর্যায়ে অনেক পরিবারকে বোঝা কমাতে সাহায্য করে। 

সরকার শুধু SSC স্তরেই নয়, HSC/উচ্চ মাধ্যমিক ফলাফল ভিত্তিক স্কলারশিপও দেয়। এগুলোর মাধ্যমে আবার অনেক শিক্ষার্থী তাদের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ কমাতে পারে। HSC ভিত্তিক স্কলারশিপ একেবারেই ভাতা‑ধরনের সাহায্য, যাতে পড়াশোনার অগ্রগতি বাধা না পায়। 

এখন যদি আপনি ভাবেন, “কেবল বাংলাদেশের শিক্ষা স্তরেই কি সরকারি স্কলারশিপ আছে?” তাহলে হ্যাঁ—দেশের বাইরে পড়াশোনার জন্যো সরকারি স্কলারশিপের সুযোগ লক্ষ করা যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা দেয়। যেমনঃ

🔹 চীনা সরকারি স্কলারশিপ (Chinese Government Scholarship/CSC):
  • চীনের সরকারের এই স্কলারশিপ প্রোগ্রাম আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য খুবই জনপ্রিয়। এখানে টিউশন ফি, ফ্রি হোস্টেল বা বাসস্থান ভাতা, মাসিক স্টাইপেন্ড (Master’s প্রোগ্রামে মাসে প্রায় CNY 3,000 বা তার বেশি), এবং মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স পর্যন্ত দেয়া হয়—এটা প্রোগ্রাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। 
🔹 চেভেনিং স্কলারশিপ (Chevening Scholarship):
  • এটি যুক্তরাজ্যের সরকারের তরফ থেকে আন্তর্জাতিক নেতাদের জন্য মাস্টার্স পর্যায়ের জন্য একটি সম্পূর্ণ ফান্ডেড স্কলারশিপ। এখানে টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, ভ্রমণের খরচ, ভিসা ফি ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়। Chevening‑এ সাধারণত এমন মানুষ আবেদন করে যাদের নেতৃত্ব, সামাজিক প্রভাব ও পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। 
এছাড়াও আরও বিশ্বের বিভিন্ন সরকারি স্কলারশিপ রয়েছে—জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ইরল্যান্ড, সুইডেন, কানাডা ইত্যাদি দেশ তাদের সরকারি শিক্ষা সহায়তা বা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় সুযোগ দেয়। 

👉 তবে একটি জিনিস মনে রাখবেন—সরকারি বা আন্তর্জাতিক সরকারি স্কলারশিপ প্রতিযোগিতামূলক হয়। তাই আপনি যদি এখনও প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাহলে:
    • ✔ সময়মতো ডকুমেন্ট তৈরি করুন,
    • ✔ সরকারি পোর্টাল/ইমেইল ঠিকভাবে নজর দিন,
    • ✔ বিদেশি স্কলারশিপের ক্ষেত্রে IELTS/TOEFL/ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিন,
    • ✔ এবং সর্বোপরি আবেদনপত্র ও SOP/PSP মনোনিবেশ করে তৈরি করুন।

🎓 বেসরকারি স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়?

স্কলারশিপের কথা শুনলে অনেকের চোখ ঝলসে ওঠে — যেন পড়াশোনার বোঝা হঠাৎ পাতলা হয়ে যাচ্ছে! কিন্তু সব সুযোগ কি সরকারি স্কলারশিপে সীমাবদ্ধ? মোটেও নয়! বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ফাউন্ডেশন, সংস্থা ও কর্পোরেট সংস্থাগুলোও প্রতিবছর হাজার হাজার ছাত্র‑ছাত্রীকে বেসরকারি স্কলারশিপ বা বৃত্তি দিয়ে থাকে। এগুলো কিছুটা সরকারি স্কলারশিপের মতো নয়, বরং আলাদা পথ দিয়ে সাহায্য করে, আর অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সুযোগ এনে দেয়।

সবার প্রথমে বুঝে নিন—বেসরকারি স্কলারশিপ মানে কি?
  • এগুলো সাধারণত সরকার নয়, বরং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ফাউন্ডেশন, এনজিও বা টেস্টমেন্টারি ট্রাস্ট যারা নিজেদের নিজস্ব অর্থ বা CSR (Corporate Social Responsibility) অর্থায়নে দেয়। এর উদ্দেশ্য হলো মেধাবী বা আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্রদের বিদ্যার পথে সাহায্য করা। 
  • একটি বড় সুবিধা হলো—বেসরকারি স্কলারশিপগুলোতে আবেদন প্রক্রিয়া অনেক সময় অনলাইনে সহজেই করা যায় এবং সরকারি ব্যবস্থা অপেক্ষা করে অপেক্ষা করে সময় নষ্ট হয় না। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান নানা ক্যাটাগরিতে স্কলারশিপ দেয়—যেমন মেধা‑ভিত্তিক, আর্থিক সাহায্য‑ভিত্তিক, মেয়েদের জন্য বিশেষ বৃত্তি কিংবা বিশেষ ক্ষেত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য। 
উদাহরণস্বরূপ—ভারতের বিভিন্ন প্রাইভেট স্কলারশিপগুলোর মধ্যে দেখা যায়:
🔹 স্টেট ব্যাঙ্ক আশা স্কলারশিপ—যা ছাত্র‑ছাত্রীকে বছরে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেয়।
🔹 এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক স্কলারশিপ—বার্ষিক কিছু অর্থ প্রদান করে।
🔹 কোটাক কন্যা স্কলারশিপ—বিশেষ করে মেয়েদের জন্য আর্থিক সহায়তা।
🔹 ল’ওরিয়েল সায়েন্স স্কলারশিপ—মেয়েদের বিজ্ঞান পড়াশোনায় বড়ো সাহায্য করে।
🔹 ইনফোসিস স্কলারশিপ—মেধাবী পড়ুয়ার জন্য ভালো ফান্ড । 

বাংলাদেশেও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ফাউন্ডেশন ও কলেজ‑বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বৃত্তি থাকে, বিশেষ করে যখন আপনি নির্দিষ্ট বিষয়ে ভালো ফলাফল রাখেন বা সমাজসেবায় কাজ করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক বেসরকারি স্কলারশিপ যেমন বিল & মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন‑এর মতো বড় ফান্ডেড প্রোগ্রামগুলোও আন্তর্জাতিক মেধাবীদের আকর্ষণ করে।

এগুলো সাধারণত এমন ছাত্র‑ছাত্রীকে দেয় যারা শুধুমাত্র পড়াশোনায় ভালো নয়, বরং নেতৃত্ব, প্রজেক্ট বা কমিউনিটি কাজে অংশগ্রহণ করে থাকে—একটু এমন প্রতিভা দেখা যায়! আর এই কারণে একেকটা বেসরকারি স্কলারশিপে আবেদন করার সময় আপনার গল্প বা লক্ষ্য সুন্দরভাবে তুলে ধরে আবেদন করা জরুরি। সুনিশ্চিতভাবে বলা যায়—বেসরকারি স্কলারশিপ হলো পড়াশোনার পথে আরেকটি শক্তিশালী সেতু, যদি আপনি সঠিক পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং সাহস নিয়ে এগিয়ে যান!

দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়-

স্কলারশিপ অনেকের কাছে যেন এক স্বপ্নের নাম। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরই একটা ইচ্ছে থাকে—ভালো ফলাফল রেখে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করা। বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানেরা এমন শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেয়, যাতে তারা আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারে। স্কলারশিপের গুরুত্ব সবাই বোঝে, বিশেষ করে যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা করতে চায় তাদের জন্য।

বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন বাস্তব করার ক্ষেত্রে স্কলারশিপ অনেকটাই জাদুর মতো কাজ করে। ফুল ফ্রি স্কলারশিপে সাধারণত টিউশন ফি, থাকার খরচ, যাতায়াত ভাতা এবং এয়ার টিকিটও অন্তর্ভুক্ত থাকে। সরকারি স্কলারশিপ হলে সুবিধাগুলো আরও বাড়িয়ে দেয়া হয়। স্কলারশিপ পেতে হলে দরকার যোগ্যতা এবং প্রতিভা। 

যেকোনো স্কলারশিপ দাতা প্রতিষ্ঠান মূলত সেই শিক্ষার্থীকেই বাছাই করে, যিনি পড়াশোনায় মেধা দেখাতে সক্ষম এবং ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার যোগ্য। যখন একজন যোগ্য শিক্ষার্থী স্কলারশিপ পায়, তখন তার চারপাশের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হয় এবং তারা নিজেও সেই যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা শুরু করে।
স্কলারশিপ-কিভাবে-পাওয়া-যায়
কিন্তু এরই মাঝে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা। অনেকেই মনে করে, যদি পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়, তাহলে স্কলারশিপ পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আসল সত্য হলো—অনেক সরকারী এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিশেষভাবে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ রাখে, যাতে মেধা এবং আগ্রহ থাকলেই পড়াশোনার পথ বন্ধ না হয়।
  • প্রথমে, দরিদ্র শিক্ষার্থী হিসেবে আপনাকে অবশ্যই নিজের যোগ্যতা ও মেধা প্রমাণ করতে হবে। শুধু রেজাল্ট নয়, আপনার সামাজিক কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, কমিউনিটি প্রজেক্ট বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো আপনার আবেদনপত্রে উল্লেখ করলে দেখা যায় যে, আপনি শুধু পড়াশোনায় ভালো নয়, সমাজে অবদান রাখতে আগ্রহী। এই ধরনের কর্মকাণ্ড স্কলারশিপ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বড় প্রভাব ফেলে।
  • দ্বিতীয়ত, সঠিক তথ্য এবং প্রস্তুতি অপরিহার্য। দরিদ্র শিক্ষার্থীরা সরকারি ও বেসরকারি স্কলারশিপের আবেদনপত্র, ডকুমেন্ট, রেজাল্ট, প্রমাণপত্র এবং পরিচয়পত্র ঠিকভাবে প্রস্তুত রাখলে সুবিধা পেতে পারেন। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ফাউন্ডেশন কম রেজাল্টের হলেও আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীকে প্রাধান্য দেয়, তাই আবেদন সময় সুযোগ হাতছাড়া না হওয়া উচিত।
  • তৃতীয়ত, স্টেটমেন্ট অফ পারপাস (SOP) এবং রেকমেন্ডেশন লেটার খুব গুরুত্বপূর্ণ। SOP-এ আপনার শিক্ষার লক্ষ্য, আগ্রহ এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে লিখুন। রেকমেন্ডেশন লেটারে আপনার শিক্ষক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি আপনাকে চিনে এবং আপনার মেধা, নেতৃত্ব এবং উদ্যোগের কথা তুলে ধরলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়ে।
  • চতুর্থত, সুযোগ থাকলে বিভিন্ন স্কলারশিপের জন্য আবেদন করুন। একটির উপর নির্ভর না থেকে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি স্কলারশিপে আবেদন করলে সুযোগ বাড়ে। অনলাইনে বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিয়মিত নজর রাখুন, যাতে নতুন বিজ্ঞপ্তি মিস না হয়।
  • সবশেষে, মনে রাখবেন—দরিদ্রতা মানেই স্বপ্নের শেষ নয়। সঠিক পরিকল্পনা, প্রমাণিত চেষ্টা, সৃজনশীলতা এবং মেধা থাকলেই আপনি অবশ্যই স্কলারশিপ পেতে পারেন। একবার সুযোগ পেলে, তা শুধু আপনার পড়াশোনা নয়, পুরো জীবনের দিক পরিবর্তন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ হল পড়াশোনার পথে জাদুর মতো হাতছানি। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও, মেধা, উদ্যোগ এবং প্রমাণিত আগ্রহের সঙ্গে সঠিক প্রস্তুতি থাকলে আপনি এই সুযোগ ব্যবহার করে স্বপ্নের উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে পারবেন।

IELTS ছাড়া স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায়

দেশের অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখে। বিদেশে পড়াশোনা মানে শুধু পড়াশোনা নয়—সেখানে আপনি নতুন বন্ধু তৈরি করতে পারবেন, বিভিন্ন ধরনের ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা পাবেন, বিশ্বভ্রমণ করতে পারবেন, পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবেন এবং নতুন সংস্কৃতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখবেন।

তবে সত্যি কথা বলতে গেলে, বিদেশে পড়াশোনার খরচ অনেক বেশি, তাই অনেক শিক্ষার্থী মনে করে এটা তাদের সাধ্যের বাইরে। এ ক্ষেত্রে স্কলারশিপ হতে পারে বড়ো সহায়ক। অনেক স্কলারশিপ এমন ধরনের সুবিধা দেয় যা শুধু টিউশন ফি নয়, বরং থাকা-খাওয়া, যাতায়াত এবং এমনকি বিমান ভাড়াও কভার করতে পারে।

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নানা ধরনের স্কলারশিপের ব্যবস্থা রাখে, যাতে শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময় ক্যাম্পাসের অংশ হওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন ফাউন্ডেশন, এনজিও ও কর্পোরেট সংস্থাও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে। বিদেশে পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপ পাওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো ঠিক কোথায় স্কলারশিপ পাওয়া যাচ্ছে এবং আপনি কোনগুলোর জন্য যোগ্য তা বোঝা। 

একবার যদি এই তথ্যগুলো ভালোভাবে জানেন, তবে দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা দেশের বাইরে কোন দেশে যাওয়া হবে, সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়াই শুধু বাকি থাকে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে বিশেষজ্ঞ বা স্কলারশিপ গাইডিং টিম, যারা আপনার জন্য তথ্য খুঁজে দেয়, আবেদন প্রক্রিয়া বুঝিয়ে দেয় এবং নিশ্চিত করে যে আপনি সঠিক স্কলারশিপের সুযোগটি হাতছাড়া না করেন। এই ধরনের সহায়তা থাকলে বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন অনেক সহজ হয়ে যায়।

তবে একটি বিষয় অনেক শিক্ষার্থীকে ভাবায় তা হল—IELTS বা TOEFL-এর স্কোর।
ভাল খবর হলো, আজকাল অনেক ইন্টারন্যাশনাল এবং বেসরকারি স্কলারশিপ রয়েছে, যেগুলো IELTS ছাড়াও দেয়া হয়। অর্থাৎ, আপনার ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণ করার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে IELTS দিতে হবে এমন নয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফাউন্ডেশন অন্য মানদণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দক্ষতা যাচাই করে। উদাহরণস্বরূপ:
    • পূর্ববর্তী শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ইংরেজি দক্ষতা দেখানো
    • বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইংরেজি টেস্ট
    • শিক্ষাগত রেকর্ড ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী যাচাই

স্কলারশিপ সম্পর্কে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মনে রাখা জরুরী-

স্কলারশিপ সম্পর্কে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মনে রাখবেন-
  • স্টেটমেন্ট অফ পারপাজ ও রেকমেন্ডেশন লেটারঃ কখনো অন্য কারো লেখা কপি করবেন না। সবকিছু নিজেই লিখবেন, নিজের চিন্তা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা ফুটিয়ে তুলবেন।
  • স্টেটমেন্ট অফ পারপাজ রিভাইজ করাঃ প্রথমবার যা লিখেছেন, সেটা ফাইনাল ধরে বসবেন না। অনেকবার লিখুন, সংশোধন করুন এবং পর্যালোচনা করুন। এইভাবে ফাইনালে আপনার স্টেটমেন্ট সুন্দর কাঠামো ও সাবলীল ভাষায় প্রস্তুত হবে।
  • গবেষণা ও জার্নাল প্রকাশঃ কখনো নিচু মানের বা অজানা জার্নালে প্রকাশ করবেন না। আপনার কাজ সম্পূর্ণ আপনারই হতে হবে, কোন কপি-পেস্ট চলবে না। না হলে ভর্তি বাতিলের ঝুঁকি থাকে।
  • আবেদন ফি জমা দেওয়ার সময়ঃ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ঠিকভাবে দিন। কারণ আবেদন ফি সাধারণত কার্ড বা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে জমা দিতে হয়।
  • ট্রান্সক্রিপ্ট বা নম্বরপত্রঃ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়ার সময় পুরোপুরি অথেনটিক এবং ইংরেজিতে লেখা ট্রান্সক্রিপ্ট ব্যবহার করুন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থার্ড পার্টির মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই করে।
  • ভর্তির সেমেস্টারঃ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত তিনটি সেমেস্টারে ভর্তি নেয়—Fall, Spring, এবং Summer। ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের জন্য Fall সেমেস্টার, যা আগস্টে শুরু হয়, সবচেয়ে সুবিধাজনক। যদি Fall সেমেস্টারে ভর্তি না হতে পারেন, তবে পরবর্তী নিকটতম সেমেস্টারে চেষ্টা করুন।
  • একই বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ভর করবেন নাঃ কখনো শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করবেন না। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করুন। এতে সুযোগ বাড়ে।
  • ভর্তি তথ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুনঃ যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজ নিয়মিত দেখুন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন সেশন বা তথ্যশিবির পরিচালনা করে। ভর্তি প্রক্রিয়ার সব দিক ভালোভাবে বুঝে আবেদন করুন।

স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায় সে সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন ১. ফুল ফ্রী স্কলারশিপ কী এবং কিভাবে পাওয়া যায়?
উত্তরঃ ফুল ফ্রী স্কলারশিপ এমন একটি বৃত্তি যা শিক্ষার্থীর টিউশন ফি, থাকার খরচ, যাতায়াত এবং প্রায়শই এয়ার টিকিটও কভার করে। এটি সাধারণত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য থাকে। এই ধরনের স্কলারশিপ পেতে হলে আপনার একাডেমিক মেধা, সামাজিক কাজের অভিজ্ঞতা, গবেষণা বা প্রতিভা প্রমাণ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি অনেক ফাউন্ডেশন এই ধরনের সুযোগ দেয়।

প্রশ্ন ২. কোন দেশে সহজেই স্কলারশিপ পাওয়া যায়?
উত্তরঃ বিভিন্ন দেশে স্কলারশিপের সুযোগের প্রাচুর্য আলাদা। ইউরোপের দেশগুলো যেমন জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক ফুল ফ্রী বা আংশিক স্কলারশিপ দেয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় মেধা ভিত্তিক এবং প্রয়োজন ভিত্তিক স্কলারশিপ অফার করে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং সিঙ্গাপুরও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ প্রদান করে।

প্রশ্ন ৩. বিদেশে স্কলারশিপ কারা পেতে পারে?
উত্তরঃ বিদেশে স্কলারশিপ মূলত মেধাবী, উদ্যোগী এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য। তবে প্রয়োজন ভিত্তিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে সীমিত শিক্ষার্থীও যোগ্য। কিছু স্কলারশিপ সংখ্যালঘু, নারী, ক্রীড়াবিদ বা গবেষণায় দক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। তাই যোগ্যতার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষার্থী স্কলারশিপ পেতে পারে।

প্রশ্ন ৪. স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য যোগ্যতা কী কী?
উত্তরঃ  স্কলারশিপের যোগ্যতা অনেক ধরনের হতে পারে:
  • মেধা ভিত্তিক: ভালো গ্রেড বা GPA প্রয়োজন।
  • প্রয়োজন ভিত্তিক: আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত।
  • অ্যাথলেটিক: ক্রীড়ার দক্ষতা থাকতে হবে।
  • ইনক্লুসিভ বা সংখ্যালঘু স্কলারশিপ: সংখ্যালঘু বা পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের সদস্য হতে হবে।
  • সঠিক প্রমাণপত্র, SOP এবং রেকমেন্ডেশন লেটার থাকলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
প্রশ্ন ৫. কীভাবে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হয়?
উত্তরঃ  প্রথমে আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী স্কলারশিপ খুঁজে নিন। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় বা ফাউন্ডেশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করুন। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট যেমন রেজাল্ট, আর্থিক প্রমাণপত্র, SOP এবং রেকমেন্ডেশন লেটার প্রস্তুত রাখুন। সময়মতো আবেদন জমা দিন এবং প্রয়োজনে ইমেইলের মাধ্যমে ফলো-আপ করুন।

প্রশ্ন ৬. বিদেশে পড়াশোনার জন্য কোন ধরণের স্কলারশিপ সবচেয়ে জনপ্রিয়?
উত্তরঃ  বিদেশে পড়াশোনার জন্য মেধা ভিত্তিক এবং প্রয়োজন ভিত্তিক স্কলারশিপ সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়া অ্যাথলেটিক এবং ইনক্লুসিভ স্কলারশিপও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয়।

প্রশ্ন ৭. স্কলারশিপের জন্য সর্বোত্তম সময় কখন আবেদন করা উচিত?
উত্তরঃ সাধারণত ভর্তির ৬–১২ মাস আগে আবেদন শুরু করলে ভালো। অনলাইনে নিয়মিত স্কলারশিপ আপডেট চেক করা উচিত।

স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায় সে সম্পর্কে আমার নিজস্ব অভিমত

আজ আলোচনা করলাম স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায় তা নিয়ে। তবে সত্যটা হলো—কাগজপত্র বা যোগ্যতা থাকলেই সব কিছু হয় না, ভাগ্যও একটা বড় ভূমিকা রাখে। কখনো কখনো চেষ্টা করেও ভাগ্য সহায় না করলে স্কলারশিপ পেতে সময় লাগতে পারে বা সরাসরি পাওয়া নাও যেতে পারে। তাই কি চেষ্টার হাত তুলবেন? অবশ্যই নয়! যতটা সম্ভব চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কারণ চেষ্টা কখনো বৃথা যায় না।

এই হলো আজকের ছোট্ট আয়োজন। আশা করি লেখাটি আপনাদের জন্য সহায়ক হবে। স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যায় নিয়ে যদি আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, বিনা দ্বিধায় করতে পারেন। এবং এই সম্পর্কিত আরো বিভিন্ন টিপস থেকে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। ধন্যবাদ!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাল্টিম্যাক্স আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।

comment url